প্রেমের নামে প্রতারণা! পরিচয় গোপন করে সহবাস, ব্ল্যাকমেইলের জেরে আত্মঘাতী তরুণী

উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়া থানা এলাকায় এক তরুণীর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, পরিচয়ের আড়ালে নিজেকে অন্য কেউ পরিচয় দিয়ে সম্পর্কের নামে শারীরিক ঘনিষ্ঠতার পর অশ্লীল ছবি দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করত এক যুবক। সেই মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত নিজের ঘরেই গলায় শাড়ি জড়িয়ে আত্মহত্যা করেন ওই তরুণী। এই ঘটনায় শোকের ছায়া এলাকায়। মৃতার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

সূত্রের খবর, মৃত ওই তরুণীর বাড়ি হাড়োয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। বছর আঠারোর ওই তরুণীর সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল মাটিয়া থানা এলাকার এক যুবকের। অভিযোগ, পরিচয়ের সময় ওই যুবক নিজের আসল পরিচয় গোপন রেখেছিল। প্রেমের ফাঁদে ফেলে ওই তরুণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক তৈরি করে সে। পরবর্তী সময়ে ওই যুবকের আসল পরিচয় সামনে আসতেই তরুণী বুঝতে পারেন তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এরপরই তিনি ওই সম্পর্কের থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন।

মৃতার পরিবারের অভিযোগ, তরুণী সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করতে চাইলেই ওই যুবক ব্ল্যাকমেইল শুরু করে। তরুণীর গোপনে তোলা কিছু আপত্তিকর ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় বা পরিচিতদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে নিয়মিত হেনস্থা করা হত। এই ক্রমাগত মানসিক নিগ্রহে ভেঙে পড়েছিলেন তরুণী। পরিবারের দাবি, বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি ঘরের বাইরে বেরনো বন্ধ করে দিয়েছিলেন। সারাক্ষণ নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করে থাকত সে।

ঘটনার দিনও একইভাবে নিজের ঘরের দরজা বন্ধ ছিল। সন্ধেবেলা অনেক ডাকাডাকি করার পরেও সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। এরপরই তারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে দেখেন, গলায় শাড়ি পেঁচানো অবস্থায় ঝুলছেন তরুণী। তড়িঘড়ি তাকে উদ্ধার করে হাড়োয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে হাড়োয়া থানায় ওই যুবকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। মৃতার মামা বলেন, “যুবকটি আমার ভাগ্নিকে প্রেমের জালে জড়িয়ে ফাঁসিয়েছিল। প্রথমে না বুঝলেও পরে সবটা জানতে পেরে ভাগ্নি সম্পর্কের থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিল। কিন্তু এরপর সে অশ্লীল ছবি দেখিয়ে ভয় দেখাতে শুরু করে। এমন অত্যাচারের জেরে ও সবসময় ঘরের ভেতর একা থাকত। আমরা ওই যুবকের কঠোরতম শাস্তি চাই, যাতে পরিচয় গোপন করে এমন প্রতারণা আর কেউ করার সাহস না পায়।”

পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্ত যুবকের খোঁজ চালাচ্ছে তারা। স্থানীয়দের দাবি, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বা ছদ্মনামে পরিচয় দিয়ে এভাবে প্রতারণার ঘটনা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই ঘটনার পর অভিযুক্তকে খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে মৃতের পরিবার।