সস্তায় উড়ান? এটিএফের দাম লিটার প্রতি ৫ টাকা কমালো কেন্দ্র, যাত্রীদের জন্য সুখবর!

ইরান-আমেরিকা সংঘর্ষের আঁচ সামলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে বিশ্ব অর্থনীতি। হরমুজ প্রণালী খুলে যাওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। বিশ্ববাজারের এই ইতিবাচক পরিস্থিতির সুফল এবার সরাসরি সাধারণ মানুষ এবং বিমান পরিষেবা সংস্থাগুলির কাছে পৌঁছাল। আজ, ১ জুলাই থেকে জ্বালানির দামের ক্ষেত্রে বড় সুখবর নিয়ে এল রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি।
আজ কেন্দ্রীয় সরকার বিমান জ্বালানি বা এভিয়েশন টার্বাইন ফুয়েল (ATF)-এর দাম লিটার প্রতি ৫ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ঘোষণার পর এখন থেকে প্রতি লিটার এটিএফের দাম দাঁড়িয়েছে ১১০ টাকা। ইরান-ইজরায়েল বা ইরান-আমেরিকা উত্তেজনার সময় জ্বালানির ঘাটতি এবং ক্রুড অয়েলের আকাশছোঁয়া দামের কারণে বিমান জ্বালানির খরচও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে গিয়েছিল। ব্যারেল প্রতি ক্রুড অয়েলের দাম ৭৫ ডলারের নিচে নেমে আসায় দেশীয় বিমান সংস্থাগুলি এই বড় স্বস্তি পেল।
বিমানের জ্বালানির পাশাপাশি বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কমানোরও ঘোষণা করা হয়েছে। আজ থেকে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম দিল্লি সহ বিভিন্ন শহরে একধাক্কায় প্রায় ১৮৩ টাকা ৫০ পয়সা কমানো হয়েছে। দিল্লিতে এখন বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম কমে দাঁড়িয়েছে ২,৯৩০ টাকা। তবে ১৪.২ কেজির ঘরোয়া এলপিজি সিলিন্ডারের দামে আপাতত কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের স্থিতিশীলতা ভারতের মতো আমদানিকারক দেশের জন্য বড় স্বস্তির। গতকাল, ৩০ জুন সরকার পেট্রোল, ডিজেল এবং এটিএফের ওপর এক্সপোর্ট ডিউটির নিয়মেও বড়সড় পরিবর্তন এনেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, জ্বালানি রপ্তানির শুল্ক পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠছে, বিমানের জ্বালানির দাম কমলে কি সাধারণ যাত্রীদের টিকিটের খরচ কমবে? যদিও বিমান সংস্থাগুলির তরফ থেকে এখনই ভাড়া কমানোর নিশ্চয়তা মেলেনি, তবে জ্বালানি খরচ কমায় বিমান সংস্থাগুলির ওপর আর্থিক চাপ কিছুটা হলেও কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। মার্কেটের বর্তমান গতিপ্রকৃতি এবং সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলির ওপরই এখন নির্ভর করছে টিকিট ভাড়ার ভবিষ্যৎ। বিশ্ববাজারে পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে আগামী দিনে জ্বালানির দাম আরও কমার আশা দেখছেন অর্থনীতিবিদরা।