হোয়াটসঅ্যাপের নামের আসল রহস্য জানেন? এই জনপ্রিয় অ্যাপের নামকরণ নিয়ে রয়েছে দারুণ এক কাহিনি!

বর্তমান ডিজিটাল যুগে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে হোয়াটসঅ্যাপ। সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমানোর আগে পর্যন্ত বন্ধু-বান্ধব কিংবা প্রিয়জনের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম এটি। কিন্তু আপনি কি কখনও ভেবে দেখেছেন, এই জনপ্রিয় অ্যাপটির নাম কেন ‘WhatsApp’ রাখা হলো? এর পেছনে লুকিয়ে আছে এক কৌতূহলোদ্দীপক ইতিহাস।

২০০৯ সালের মে মাসে ইয়াহুর প্রাক্তন দুই কর্মী জ্যান কুম এবং ব্রায়ান অ্যাকটন যখন এই অ্যাপটি তৈরি করেন, তখন এর লক্ষ্য ছিল খুব সাধারণ। শুরুতে এটি কেবল একটি স্ট্যাটাস আপডেট করার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল। ব্যবহারকারীরা তাঁদের মোবাইলের মাধ্যমে বন্ধুদের জানাতে পারতেন তাঁরা এই মুহূর্তে কী করছেন বা কোথায় আছেন। কিন্তু সময়ের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এটি দ্রুত বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী মেসেজিং প্ল্যাটফর্মে রূপান্তরিত হয়।

এই অ্যাপের নামকরণের পেছনের রহস্যটি মূলত একটি জনপ্রিয় ইংরেজি বাক্যগুচ্ছের সঙ্গে জড়িত। ইংরেজি ভাষায় কাউকে সম্ভাষণ জানাতে বা কুশল বিনিময়ের জন্য ‘What’s up?’ কথাটি আমরা প্রায়ই ব্যবহার করি, যার বাংলা অর্থ হলো ‘কী খবর?’ বা ‘কী চলছে?’ জ্যান কুম এবং ব্রায়ান অ্যাকটন যখন অ্যাপটি তৈরির কথা ভাবছিলেন, তখন তাঁরা এমন একটি নাম খুঁজছিলেন যা মানুষের দৈনন্দিন জীবনের কথোপকথনের সঙ্গে মিলে যায়। সেই চিন্তা থেকেই ‘What’s up’ শব্দগুচ্ছের অনুকরণে অ্যাপটির নাম রাখা হয় ‘WhatsApp’। এটি আসলে একটি বিকৃত ইংরেজি রূপ, যা আধুনিক প্রযুক্তির জগতে এক মাইলফলক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২০১৪ সালে ফেসবুক (বর্তমানে মেটা) যখন ১৯ বিলিয়ন ডলারে হোয়াটসঅ্যাপ অধিগ্রহণ করে, তখন এই প্ল্যাটফর্মের জনপ্রিয়তায় নতুন মাত্রা যোগ হয়। শুরুতে এর ব্যবহারের জন্য সামান্য বার্ষিক ফি থাকলেও, ২০১৬ সালে কোম্পানিটি এটিকে চিরতরে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যবহারের সুযোগ করে দেয়। একই সময়ে যুক্ত হয় এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন, যা ব্যবহারকারীদের বার্তার গোপনীয়তাকে সর্বোচ্চ সুরক্ষা প্রদান করে।

বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপ কেবল একটি মেসেজিং অ্যাপ নয়। ২০১৮ সালে ব্যবসায়িক লেনদেনের সুবিধার্থে ‘হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেস’ অ্যাপ চালু হয়। এছাড়া ইউপিআই-ভিত্তিক পেমেন্ট সিস্টেম (হোয়াটসঅ্যাপ পে), মাল্টি-ডিভাইস সাপোর্ট এবং চ্যাট লকের মতো আধুনিক ফিচার একে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। আজ বিশ্বের ৩ বিলিয়নেরও বেশি মানুষ এই মাধ্যম ব্যবহার করছেন।

একটি ছোট স্ট্যাটাস আপডেট অ্যাপ থেকে আজকের এই বৃহৎ যোগাযোগ ব্যবস্থা—পুরো যাত্রাপথটি যেমন বিস্ময়কর, তেমনই এর নামের পেছনের এই সাধারণ অথচ অর্থবহ গল্পটিও মানুষের পছন্দের তালিকায় রয়েছে। তাই পরের বার যখনই আপনি কাউকে ‘What’s up’ মেসেজ পাঠাবেন, মনে রাখবেন, প্রযুক্তির এই বিপ্লবের শুরুটা হয়েছিল ঠিক এভাবেই।