উড়ানের আগেই বিপদ! ইঞ্জিনে ত্রুটি শনাক্ত হওয়ায় রানওয়েতে আটকে পড়ল মুম্বাই-দুবাই ফ্লাইট

চলতি সপ্তাহের শুরুতেই বিমান পরিবহণ পরিষেবায় একের পর এক যান্ত্রিক ত্রুটি ও জরুরি পরিস্থিতির ঘটনা সামনে আসায় উদ্বেগ বাড়ছে যাত্রীদের মধ্যে। মঙ্গলবার মুম্বাই ও দারভাঙ্গা এবং সোমবার সুরাটে ঘটা পর্যায়ক্রমিক ঘটনাগুলো বিমান নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

মুম্বাই-দুবাই ফ্লাইট গ্রাউন্ডেড মুম্বাই থেকে দুবাইগামী স্পাইসজেটের ফ্লাইট এসজি-৫১১৩ (SG-5113) উড্ডয়নের ঠিক আগের মুহূর্তে বড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেল। রানওয়েতে থাকার সময় পাইলট বিমানের ইঞ্জিনে যান্ত্রিক ত্রুটি লক্ষ্য করেন। দ্রুত সতর্ক হয়ে তিনি বিমানটিকে আর ওড়ানোর অনুমতি দেননি। রানওয়েতেই ফ্লাইটটি থামিয়ে দেওয়া হয় এবং সকল যাত্রীকে নিরাপদে টার্মিনালে ফিরিয়ে আনা হয়।

দারভাঙ্গায় টায়ার ফেটে আতঙ্ক সোমবার বিহারের দারভাঙ্গা বিমানবন্দরেও একই ধরনের এক ভীতিজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। মুম্বাই থেকে আসা স্পাইসজেটের একটি বিমানের অবতরণের সময় হঠাৎ টায়ার ফেটে যায়। ভেতরে প্রায় ১৫০ জন যাত্রী ছিলেন। পাইলটের উপস্থিত বুদ্ধি এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দ্রুত তৎপরতায় বড় কোনো দুর্ঘটনা ছাড়াই বিমানটিকে নিরাপদে অ্যাপ্রনে সরিয়ে আনা হয়। কারিগরি পরীক্ষার পর সোমবার সন্ধ্যায় বিমানটিকে পুনরায় উড্ডয়নের অনুমতি দেওয়া হয়।

মাঝ আকাশে অসুস্থ শিশু, জরুরি অবতরণ ইন্ডিগোর এদিকে সোমবার সন্ধ্যায় আহমেদাবাদ থেকে মুম্বাইগামী ইন্ডিগো ফ্লাইট 6E-7018-এ এক ভিন্ন ধরণের জরুরি অবস্থা তৈরি হয়। বিমানে থাকা ৩ বছর বয়সী এক শিশু হঠাৎ সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে। শিশুটির অবস্থার দ্রুত অবনতি দেখে পাইলট তৎক্ষণাৎ ‘মেডিক্যাল ইমার্জেন্সি’ ঘোষণা করেন। বিমানে উপস্থিত দুজন চিকিৎসকের প্রাথমিক চেষ্টার পরও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় পাইলট বিমানটিকে সুরাট বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন। নিরাপদে অবতরণের পর শিশুটিকে সুরাটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় পরপর এই ঘটনাগুলো বিমান পরিষেবা সংস্থাগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা ও জরুরি প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব আরোপ করছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে নিয়মিত কারিগরি পরীক্ষা ও কর্মীদের জরুরি পরিস্থিতির মোকাবিলা করার প্রশিক্ষণ যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এই ঘটনাগুলো তারই প্রমাণ দিচ্ছে।