রাম মন্দিরে ‘অনুদান দুর্নীতি’র তোপ! অযোধ্যায় যাওয়ার পথে গৃহবন্দি কংগ্রেস সভাপতি অজয় রাই

রাম মন্দিরে অনুদান সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল উত্তরপ্রদেশের রাজনীতি। অভিযোগের সত্যতা অনুসন্ধানে এবং রাম মন্দির দর্শনে অযোধ্যায় যাওয়ার পথে উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অজয় রাই ও তাঁর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলকে গৃহবন্দি করল প্রশাসন। মঙ্গলবার দুপুরে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বার্তায় স্বয়ং কংগ্রেস সভাপতি এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন।
কী ঘটনা ঘটল? মঙ্গলবার সকালে অজয় রাইয়ের নেতৃত্বে কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দল রাম মন্দির দর্শনের পরিকল্পনা করেছিল। এই দলে তাঁর সঙ্গে ছিলেন বারাবাঁকির সাংসদ এসপি গৌতম, প্রাক্তন বিধান পারিষদ দীপক সিং, মহারাজগঞ্জের প্রাক্তন বিধায়ক বীরেন্দ্র চৌধুরী এবং বারাবাঁকির প্রাক্তন বিধায়ক মিতা গৌতম। অভিযোগ, তাঁরা যখন অযোধ্যার দিকে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখনই পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের আটকানো হয় এবং গৃহবন্দি করা হয়।
কংগ্রেসের অভিযোগ ও প্রধানমন্ত্রীর নীরবতা রাম মন্দিরের নির্মাণকাজে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে দীর্ঘ দিন ধরেই সরব কংগ্রেস। অজয় রাইয়ের দাবি, মন্দিরের অনুদান সংগ্রহ ও খরচের ক্ষেত্রে বড় ধরনের দুর্নীতি হয়েছে। এই ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর নীরবতাকে কেন্দ্র করে দলের পক্ষ থেকে তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। অজয় রাইয়ের কথায়, “রাম মন্দির আমাদের আস্থার জায়গা, সেখানে দুর্নীতির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সরকার সত্য গোপন করতে চাইছে এবং কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করছে।”
রাজনৈতিক মহলে শোরগোল এই ঘটনায় যোগী সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র তোপ দেগেছে কংগ্রেস। দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, কোনো শান্তিপূর্ণ দর্শনার্থীকে এভাবে গৃহবন্দি করা অগণতান্ত্রিক। অন্যদিকে, স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো এই আটক বা গৃহবন্দি করার কারণ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাম মন্দিরের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসায় এবং কংগ্রেস সেখানে সক্রিয় হওয়ায় প্রশাসন আইন-শৃঙ্খলার দোহাই দিয়ে এই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে অযোধ্যা ও সংলগ্ন এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে। মন্দির দর্শনকে কেন্দ্র করে এই ‘গৃহবন্দি’ হওয়ার ঘটনা আগামী দিনে উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।