ইনফ্লুয়েন্সারদের কপালে চিন্তার ভাঁজ! কাজ শেষ হলেও মিলছে না পারিশ্রমিক, বাড়ছে অর্থনৈতিক সংকট

ভারতের ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং বাজার বর্তমানে ৫,০০০ কোটি টাকার মাইলফলক ছুঁতে চলেছে। অথচ এই চোখ ধাঁধানো সাফল্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক তিক্ত সত্য। সোশ্যাল মিডিয়ায় রিল বা ভিডিও তৈরি করা বহু ছোট ক্রিয়েটর এখন চূড়ান্ত অর্থনৈতিক সংকটের মুখে। কাজ সম্পন্ন করার পরেও মাসের পর মাস টাকা না পাওয়া এবং অসংগঠিত কাজের কাঠামোর জেরে নাজেহাল হচ্ছেন তাঁরা।
হোয়াটসঅ্যাপে ডিল, নেই আইনি সুরক্ষা বর্তমান বাজারে ক্রিয়েটর এবং ব্র্যান্ডের মধ্যেকার চুক্তিগুলি অত্যন্ত ভঙ্গুর। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কোনো লিখিত চুক্তি বা ইমেল ছাড়াই কেবল হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ বা ফোন কলের মাধ্যমে ব্যবসার লেনদেন হচ্ছে। ফুড ক্রিয়েটর আয়ুষ সাপ্রার মতে, ছোট ক্রিয়েটররা কাজের চাপে বাধ্য হয়েই এই ঝুঁকিপূর্ণ পথে হাঁটেন। কোনো লিখিত চুক্তি না থাকায় কাজ শেষে ব্র্যান্ড বা এজেন্সিগুলি টাকা দিতে টালবাহানা করলে প্রতিকারের পথ থাকে না।
এজেন্সিদের দৌরাত্ম্য ও অসাধু প্রতিযোগিতা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটের মূল কারণ বাজারে ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং এজেন্সির সংখ্যায় অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। দেশে বর্তমানে প্রায় ২,০০০টি এজেন্সি রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৩০-৩৫টি বড় সংস্থা বাজারের প্রায় ৭৫ শতাংশ দখল করে আছে। বাকি ১,২০০-এর বেশি ছোট এজেন্সি টিকে থাকতে গিয়ে ছোট ক্রিয়েটরদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
আইপিএলআইএক্স (IPLIX) মিডিয়া-র সিইও নীল গোগিয়া জানান, বড় সংস্থাগুলি সাধারণত क्लाয়েন্টের কাছ থেকে টাকা পেতে ৬০ থেকে ৯০ দিন দেরি করে, যার পুরো দায়ভার গিয়ে পড়ে ছোট ক্রিয়েটরদের ওপর। এর ফলে ক্রিয়েটরদের ‘ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল’ বা হাতে নগদ টাকার বড় অভাব দেখা দিচ্ছে।
পাওনা আদায়ে আইনি নোটিশের পথ পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে, অনেক ক্রিয়েটরকে পাওনা টাকা আদায়ের জন্য আইনি নোটিশ পাঠানো বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ভিডিওর মাধ্যমে ব্র্যান্ডকে জনসমক্ষে হেনস্তা করতে হচ্ছে। খোদ আয়ুষ সাপ্রাকেও নিজের ৩০ হাজার টাকা আদায়ের জন্য দীর্ঘ লড়াই করতে হয়েছিল।
এই পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে এখন অভিজ্ঞ ক্রিয়েটররা ‘অ্যাডভান্স পেমেন্ট’ বা শুধুমাত্র পরিচিত ও নির্ভরযোগ্য এজেন্সির সঙ্গে কাজ করার নীতি গ্রহণ করছেন। তবে পেশাদার কোনো গাইডলাইন বা নিয়ন্ত্রক সংস্থা না থাকায় সাধারণ ক্রিয়েটরদের পকেট কাটার প্রবণতা এই ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল বাজারে বড়সড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।