সবুজ ভারত গড়ার অঙ্গীকার: বৃক্ষরোপণ ও জনকল্যাণমূলক কাজের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ‘জল গঙ্গা সংবর্ধন অভিযান’

মধ্যপ্রদেশ জুড়ে আয়োজিত দীর্ঘকালীন ‘জল গঙ্গা সংবর্ধন অভিযান’-এর আজ পর্দা নামল। অভিযানের সমাপ্তি উপলক্ষে রাজগড়ে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মোহন যাদব। গঙ্গা নদী ও পরিবেশ সুরক্ষার বার্তা নিয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ভৈষবমাতা এলাকার পবিত্র ‘দুধ তালাইয়া’-তে বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে পূজা ও প্রার্থনা সম্পন্ন করেন। রাজ্যের সুখ ও সমৃদ্ধির জন্য তিনি বিশেষ প্রার্থনাও করেন।
পরিবেশ ও উন্নয়নের বার্তা অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ভৈষবমাতা মন্দিরের প্রস্তাবিত উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের নকশা খতিয়ে দেখেন। পরিবেশ সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি সেখানে বৃক্ষরোপণ করেন এবং একটি ‘সবুজ ও সুন্দর ভারত’ গড়ার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে স্থানীয় আদিবাসী নৃত্যশিল্পীরা ঐতিহ্যবাহী পরিবেশনার মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
জনকল্যাণমূলক ও নারী ক্ষমতায়ন অভিযানটির সমাপ্তি দিনে মুখ্যমন্ত্রী বেশ কিছু জনমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেন:
প্রতিবন্ধী সহায়তা: প্রতিবন্ধীদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে তাদের হাতে তিন চাকার সাইকেল (ট্রাইসাইকেল) তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী।
নারী ক্ষমতায়ন: ‘লক্ষপতি দিদি’ গোষ্ঠীগুলোর সদস্যদের হাতে ১১টি বৈদ্যুতিক যান (ই-যান) তুলে দেওয়া হয়, যা নারী স্বনির্ভরতার ক্ষেত্রে এক বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: বেওয়ারের পরিবেশপ্রেমী সংরক্ষণ কমিটির প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে তৈরি ‘ইকো-ব্রিক’-এর ভূয়সী প্রশংসা করেন ডঃ যাদব। তিনি একে ‘জনঅংশগ্রহণের মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষার সেরা মডেল’ হিসেবে অভিহিত করেন।
জনঅংশগ্রহণের ওপর জোর সমাপনী ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, “জল সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ এবং পরিচ্ছন্নতার মতো প্রচার কর্মসূচিগুলো কেবল সরকারি উদ্যোগে সফল হতে পারে না। এর সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ।”
এই অভিযানের মাধ্যমে মধ্যপ্রদেশ সরকার রাজ্যে জলস্তর বৃদ্ধি ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার যে উদ্যোগ নিয়েছিল, তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।