তৃণমূলের অন্দরে বড় ধাক্কা! বনগাঁয় মন্ত্রীর এলাকায় একসাথে ৬ পঞ্চায়েত প্রধানের পদত্যাগ!

রাজ্যে পালাবদলের হাওয়া কি এবার গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরেও? উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ উত্তর বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের অস্বস্তি বাড়িয়ে একসাথে ৬টি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পদত্যাগ করেছেন। ব্যক্তিগত কারণের কথা উল্লেখ করলেও, এই গণ ইস্তফাকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর।

কী ঘটেছে? বনগাঁ উত্তর বিধানসভার অন্তর্গত সাতটি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে ছয়টির প্রধান সোমবার সশরীরে বনগাঁ বিডিও (BDO) অফিসে উপস্থিত হয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। পদত্যাগকারী প্রধানরা হলেন— গোপালনগর-১, গোপালনগর-২, ধর্মপুকুরিয়া, আকাইপুর, ছয়ঘরিয়া এবং গঙ্গানন্দপুরের। শুধু ঘাটবাওড় গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানই আপাতত স্বপদে বহাল রয়েছেন। এছাড়া ছয়ঘরিয়া পঞ্চায়েতের উপ-প্রধানও পদত্যাগ করেছেন।

দাবি ও পাল্টা দাবি: পদত্যাগকারী পঞ্চায়েত প্রধানদের দাবি, পারিবারিক এবং ব্যক্তিগত অসুবিধার কারণে তাঁরা দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। ছয়ঘরিয়া পঞ্চায়েতের প্রধান সবিতা সরকার ইস্তফা দেওয়ার সময় বলেন, “ব্যক্তিগত কারণেই পদত্যাগ করলাম। তবে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের হাত ধরে উন্নয়ন হোক, আমরা সরকারের সাথেই আছি।”

অন্যদিকে, এই ঘটনাকে তৃণমূলের আভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ব্যর্থতার প্রতিফলন হিসেবে দেখছে বিজেপি। বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতি বিকাশ ঘোষ দাবি করেন, “তৃণমূলের দুর্নীতির জেরে এখন এলাকাতেই বেরোতে পারছেন না পঞ্চায়েত প্রধানরা। জনরোষ থেকে বাঁচতেই এই গণ ইস্তফা। এটা আসলে তৃণমূলের ডুবন্ত জাহাজের ছবি।”

প্রশাসনিক পরিস্থিতির কী হবে? প্রধানরা পদত্যাগ করলেও তাঁরা পঞ্চায়েত সদস্যপদ ছাড়েননি। প্রশাসনিকভাবে যাতে নাগরিক পরিষেবায় ব্যাঘাত না ঘটে, তার জন্য বিডিও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নজর রাখতে বলেছেন। তবে স্থানীয় রাজনীতির বিশ্লেষকদের মতে, বনগাঁর এই ঘটনার প্রভাব বিধানসভার বাকি পঞ্চায়েতগুলিতেও পড়তে পারে। রাজ্যের মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়ার এলাকায় এভাবে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিতে ফাটল ধরা রাজনৈতিক মহলে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।