তাজমহলের শহরের নতুন ‘ম্যাজিক’! একর প্রতি ১ লক্ষ টাকা আয়ের পথ দেখাচ্ছে পালং চাষ

তাজমহলের শহর আগ্রা এখন কেবল পর্যটনের জন্য নয়, পালং চাষের জন্যও বিখ্যাত হয়ে উঠেছে। আগ্রার কৃষকদের কাছে পালং চাষ এখন আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষকদের মতে, মাত্র ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ করে এক একর জমিতে পালং চাষ করলে সেখান থেকে অনায়াসে ১ লক্ষ টাকা বা তার বেশি মুনাফা করা সম্ভব।

এই চাষের সবথেকে বড় সুবিধা হলো এর স্বল্প মেয়াদ। বীজ বোনার মাত্র ৩০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যেই ফসল কাটার উপযোগী হয়ে ওঠে। এছাড়া, একবার বীজ বপন করলেই একই গাছ থেকে ৪ থেকে ৫ বার ফসল সংগ্রহ করা যায়, যা উৎপাদন খরচ অনেকটাই কমিয়ে দেয়। আগ্রার যমুনা অববাহিকার পলিমাটি পালং চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী, যেখানে জল নিকাশী ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় রোগবালাই কম হয়।

বছরজুড়ে বাজারে পালং শাকের চাহিদা থাকায় কৃষকরা নিয়মিত আয়ের সুযোগ পান। বিশেষ করে বিয়ের মরসুমে চাহিদা ও দাম দুটোই থাকে তুঙ্গে। রবী, খরিফ বা জায়দ—সারা বছরই এই চাষ করা সম্ভব। রামচন্দ্র নামক স্থানীয় এক অভিজ্ঞ কৃষক জানান, তাজমহল দর্শনে আসা পর্যটকদের জন্য শহরের হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোতে প্রচুর পালং শাকের প্রয়োজন হয়, ফলে স্থানীয় বাজারেই কৃষকরা ভালো দাম পেয়ে যান। কম পরিশ্রম ও উচ্চ মুনাফার কারণে আগ্রার কৃষকরা এখন প্রথাগত চাষ ছেড়ে পালং চাষে ঝুঁকছেন, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে নতুন গতি দিয়েছে।