বিধানসভায় বড় জয় সরকারের, ওবিসি সংশোধনী বিল পাশ, এক ধাক্কায় বাতিল ১১৩টি জাতি!

রাজ্য বিধানসভায় এক ঘণ্টার দীর্ঘ উত্তপ্ত আলোচনা ও তীব্র বিতর্কের শেষে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাশ হয়ে গেল ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল ২০২৬’। কলকাতা হাইকোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশকে মান্যতা দিয়ে আনা এই বিলের মাধ্যমে এক ধাক্কায় পূর্বতন সরকারের সময় অন্তর্ভুক্ত হওয়া ১১৩টি জাতিকে ওবিসি তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার।

এদিন বিধানসভায় বিলটি উত্থাপন করেন অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ। ভোটাভুটিতে ১৬৪টি ভোটের সমর্থনে বিলটি অনায়াসেই পাশ হয়, যেখানে বিরোধীদের পক্ষ থেকে মাত্র ১৭টি ভোট পড়ে। আলোচনার শুরুতেই শাসক দলের বিধায়ক অরিজিৎ বক্সি পূর্বতন সরকারের কড়া সমালোচনা করে অভিযোগ করেন যে, ২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে কোনো রকম বিজ্ঞানসম্মত সমীক্ষা ছাড়াই রাজনৈতিক তোষণের উদ্দেশ্যে এই জাতিগুলিকে ওবিসি তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। তিনি একে ‘প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি’ বলে আখ্যা দেন।

তবে সরকারের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সরব হন বিরোধী বিধায়করা। বিশ্বনাথ দাস, নওশাদ সিদ্দিকী ও বাবর আলিদের দাবি, এই বিল আদতে প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতার পথ প্রশস্ত করবে। নওশাদ সিদ্দিকী রঙ্গনাথ মিশ্র কমিশন ও ইন্দিরা সাহানি মামলার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, যথাযথ তথ্য ছাড়া সংরক্ষণের হার ১৭ শতাংশ থেকে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা বৈষম্যমূলক। বিধায়ক বাবর আলি সাচার কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রান্তিক মুসলিম সম্প্রদায়ের সামাজিক বাস্তবতার কথা তুলে ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, এই বিল সমাজে বিভেদ আরও বাড়িয়ে তুলবে।

বিরোধীদের যাবতীয় আশঙ্কার জবাব দিতে গিয়ে মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ জানান, এসসি বা এসটি তালিকায় কোনো পরিবর্তন করা হচ্ছে না। তিনি স্পষ্ট করেন, শুধুমাত্র নিয়ম বহির্ভূতভাবে অন্তর্ভুক্ত ১১৩টি জাতিকেই বাতিল করা হচ্ছে। তবে ১৯৯৩ সালের আইন অনুযায়ী পুরনো ৬৬টি জাতি আগের মতোই সংরক্ষণের সুবিধা পাবে। মন্ত্রী আরও আশ্বস্ত করেন যে, ভবিষ্যতে কোনো সম্প্রদায় যথাযথ বৈজ্ঞানিক সমীক্ষায় অনগ্রসর প্রমাণিত হলে, সরকার তাদের তালিকাভুক্ত করার বিষয়টি অবশ্যই পুনর্বিবেচনা করবে।

দীর্ঘদিনের আইনি ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর, হাইকোর্টের নির্দেশ মেনেই এই বিলটির আইনি সিলমোহর পড়ল বিধানসভায়। তবে এই সংশোধনী পরবর্তী সময়ে কর্মরত সরকারি কর্মচারীদের ওপর কী প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে জল্পনা রয়েই গেল।