বিষাক্ত ক্যাপসুলের মৃত্যুফাঁদ! মোহরমের মিছিলে ১৫ হাজার মানুষকে মারার ভয়ঙ্কর ছক ফাঁস

মুম্বইয়ে মোহরমের শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে এক ভয়াবহ গণহত্যার পরিকল্পনা বানচাল করে দিল পুলিশ। পুনের বাসিন্দা ফৈয়াজ প্রেমজি নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতারের পর যে তথ্য সামনে এসেছে, তাতে স্তম্ভিত তদন্তকারীরা। অভিযুক্তের লক্ষ্য ছিল অন্তত ১৫ হাজার নিরপরাধ মানুষের প্রাণ নেওয়া। ঘটনার ভয়াবহতায় গোটা মুম্বই শহর জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, ফৈয়াজ অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় এই খুনের নীল নকশা তৈরি করেছিল। সে অনলাইনে প্রায় ৫০ কেজি ইঁদুর মারার বিষ (জিঙ্ক ফসফাইড) এবং ৩০ হাজার খালি ক্যাপসুল কিনেছিল। এরপর মুম্বইয়ের ডোংরি এলাকায় একটি গোপন আস্তানা ভাড়া নিয়ে দিনের পর দিন কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সেই ক্যাপসুলগুলিতে বিষ ভরেছিল সে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, মোহরমের দিন মিছিলে অংশগ্রহণকারী মানুষদের কাছে সে এই বিষাক্ত ক্যাপসুলগুলিকে ‘ব্যথার ওষুধ’ এবং ‘ইমিউনিটি বুস্টার’ হিসেবে বিলি করতে শুরু করে। কয়েক জন তা সেবন করার পরই তীব্র বমি ও শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। বর্তমানে ১১ জন অসুস্থ ব্যক্তি চিকিৎসাধীন থাকলেও তাঁরা বিপন্মুক্ত। স্থানীয় মানুষের সন্দেহ হওয়ায় দ্রুত পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। সময়মতো পুলিশের হস্তক্ষেপে একটি বৃহত্তর জাতীয় ট্র্যাজেডি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
ফৈয়াজের বিদেশ সফরের রেকর্ড এখন তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে। গত এক বছরে সে ১৯ বার ইরান ও ইরাক সফর করেছে। সে জানিয়েছে, তাঁর মা ও বোন ওই দুই দেশে থাকেন। কিন্তু কেন একজন ব্যক্তি এত ঘনঘন ওই দেশগুলিতে যাতায়াত করত, তা নিয়ে গভীর সন্দেহ তৈরি হয়েছে। মুম্বই পুলিশের পাশাপাশি ATS এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি এই ঘটনার সঙ্গে কোনো আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের যোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে। তার আর্থিক লেনদেন, ডিজিটাল যোগাযোগ এবং সোশ্যাল মিডিয়া চ্যাট স্ক্যান করা হচ্ছে। এটি কি কোনো বড়সড় ষড়যন্ত্রের অংশ, নাকি ফৈয়াজের একার সিদ্ধান্ত—তদন্তের মাধ্যমে সেই জট খুলতে চাইছেন আধিকারিকরা। এই গ্রেফতারির পর গোটা এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।