ভুটান থেকে নেমে আসা বন্যায় ভাসল আলিপুরদুয়ার! চোখের সামনেই শেষ চাষের জমি, নিঃস্ব বাসিন্দারা

আলিপুরদুয়ার জেলার ভারত-ভুটান সীমান্তবর্তী জয়গাঁর উপর খোখলা গ্রাম এখন কার্যত বিপর্যস্ত। রাতের প্রবল বৃষ্টির জেরে ভুটানের পাহাড় থেকে নেমে আসা ভূতআনি নদীর জল হঠাৎ করেই হুড়মুড়িয়ে ঢুকে পড়ে ভারতীয় ভূখণ্ডে। প্রকৃতির এই তাণ্ডবে দিশেহারা স্থানীয় বাসিন্দারা। জলের তোড়ে ভেসে আসা পাথর, বালি ও পাথরের কাদার স্তরে কার্যত ঢেকে গেছে পুরো এলাকা। মুহূর্তের মধ্যে কৃষিজমি, সুপারি বাগান এবং বাড়িঘরের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা আজ পুরোপুরি থমকে দাঁড়িয়েছে।
সকাল হতেই বন্যার ভয়াবহ রূপ প্রকাশ্যে এসেছে। বহু বাড়ির উঠোন, রাস্তাঘাট এবং সুপারি বাগান কাদার আস্তরণে ঢাকা পড়ে গেছে। প্রবল স্রোতে বহু সুপারি গাছ উপড়ে ভেসে যেতে দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সারারাত আতঙ্কে চোখের পাতা এক করতে পারেননি তাঁরা। প্রকৃতির রোষে পড়ে সর্বস্ব হারানোর আশঙ্কায় প্রহর গুনছেন গ্রামের মানুষ। বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, ভুটানের দিক থেকে আসা ভূতআনি নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহ এভাবেই প্রতি বছর ভারী বৃষ্টির সময় সরাসরি তাঁদের জনবসতি ও কৃষি জমির ওপর আছড়ে পড়ে। পাথর ও বালির পলি জমায় উর্বর মাটিও আজ বন্ধ্যা হয়ে পড়ার উপক্রম।
ভয়াবহতার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে ভারত-ভুটান সীমান্তের সুরক্ষা প্রাচীর। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, সীমান্তের সেই সুরক্ষা প্রাচীরের একাধিক অংশ জলের তোড়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের ধসের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। এটি ভেঙে পড়লে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইতিমধ্যেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখার কাজ শুরু হয়েছে। তবে গ্রামবাসীদের দাবি, কেবল ত্রাণ বিতরণ নয়, ভূতআনি নদীর গতিপথ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিকভাবে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ভূটানে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়লে আলিপুরদুয়ারের পরিস্থিতি যে আরও জটিল আকার ধারণ করবে, তা নিয়ে স্থানীয়রা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। ত্বরিত গতিতে উদ্ধারকাজ শুরু করার পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আর্জি জানিয়েছেন বাসিন্দারা।