সাত দিনে ১১টি ভয়াবহ ভূমিকম্প! জাপানের পর এবার ভারত, পৃথিবী কি বড় কোনো বিপদের দিকে?

রবিবার সকালে ফের বড়সড় ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল জাপান। স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৬.১ মাত্রার এই কম্পন অনুভূত হয়। জাপানের আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইওয়াতে প্রদেশের উপকূল থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার গভীরে ছিল এই ভূমিকম্পের উৎসস্থল। আওমোরি প্রদেশসহ বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে তীব্র কম্পন অনুভূত হলেও, এখন পর্যন্ত বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি এবং সুনামি সতর্কতাও জারি করা হয়নি। তবে জাপানের বাসিন্দাদের মধ্যে গভীর আতঙ্ক বিরাজ করছে।
উল্লেখ্য, ভূমিকম্পপ্রবণ জাপান গত কয়েক দিন ধরেই চরম অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ৭.২ মাত্রার শক্তিশালী কম্পনের পর শুক্রবার মাউন্ট ফুজির কাছাকাছি ৫.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছিল টোকিও। তার ওপর বর্তমান টাইফুন মৌসুমে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের (Mudslide) নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। ভূবিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, টেকটোনিক প্লেটের এই ঘনঘন নড়াচড়া আরও বড় কম্পনের পূর্বাভাস হতে পারে।
বিশ্বব্যাপী ভূমিকম্পের এই ধারাবাহিকতা বিজ্ঞানীদের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত মাত্র সাত দিনে পৃথিবীজুড়ে মোট ১১টি বড় মাপের ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে ভেনেজুয়েলার চিত্র সবচেয়ে ভয়াবহ; বুধবার দেশটিতে হওয়া দুটি জোড়া শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ৯২০ ছাড়িয়ে গেছে এবং ৩,৩৬০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রাণের খোঁজ করছেন। ফিলিপিন্স, নিকারাগুয়া, পাকিস্তান এবং সলোমন দ্বীপপুঞ্জেও গত কয়েক দিনে কম্পন অনুভূত হয়েছে।
ভারতের পরিস্থিতিও ব্যতিক্রম নয়। শনিবার সন্ধ্যায় জম্মু-কাশ্মীর থেকে রাজধানী দিল্লি পর্যন্ত মাটি কেঁপে উঠেছে। জাতীয় ভূকম্পন বিজ্ঞান কেন্দ্র জানিয়েছে, ৬.২ মাত্রার এই কম্পনের উৎস ছিল আফগানিস্তানে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে এতগুলো বড় মাত্রার ভূমিকম্প এবং এর ফলে সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয় বিশ্বজুড়ে এক গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। প্রকৃতি তার রুদ্রমূর্তি ধারণ করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে, আর ভূবিজ্ঞানীরাও এই বিরল ধারাবাহিকতাকে আসন্ন বিপদের সংকেত হিসেবে দেখছেন।