‘চল ফোট’ বলার পরিণাম! সৌরভ পালোধির বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছে শিল্পী মহল, চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার এবং গত দেড় দশকের লাগামহীন দুর্নীতি ও বঞ্চনার অবসান ঘটাতে মুখ্যমন্ত্রী তথা তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে স্মারকলিপি জমা দিলেন বাংলার একদল ক্ষুব্ধ শিল্পী। প্রখ্যাত অভিনেতা ও বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষের নেতৃত্বে শিল্পীদের একটি প্রতিনিধি দল তাঁদের দীর্ঘদিনের জমাট বাঁধা যন্ত্রণা ও অভিযোগের খসড়া মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন।
প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এই প্রতিবাদী সভায় উঠে আসে বাংলার সাংস্কৃতিক জগতে গত ১৫ বছরে ঘটে যাওয়া নজিরবিহীন দুর্নীতির ফিরিস্তি। ব্রাত্য বসু, ইন্দ্রনীল সেনের মতো গুণীজন থেকে শুরু করে অরূপ বিশ্বাস ও স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধেও উঠল শিল্পের নামে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার অভিযোগ। তবে এদিনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন পরিচালক-নাট্যকার সৌরভ পালোধি।
ঘটনার সূত্রপাত পাঁচ বছর আগে, যখন অভিনেতা কৌশিক কর বিজেপি করার অপরাধে সৌরভ পালোধির নাটক থেকে বাদ পড়েন। তৎকালীন সময়ে কৌশিক করকে উদ্দেশ্য করে সৌরভের ‘চল ফোট’ মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে এনে এদিন এক ব্যক্তি প্রকাশ্যেই গর্জে ওঠেন। সভায় উপস্থিত জনৈক ব্যক্তি সৌরভ পালোধিকে ‘দেশদ্রোহী’ আখ্যা দিয়ে তাঁকে বহিষ্কারের দাবি তোলেন। সম্প্রতি বিজেপির বিধায়কদের নিজের সিনেমা দেখার আমন্ত্রণ জানানোয় সৌরভের ‘সুবিধাবাদী’ মানসিকতা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে তীব্র কটাক্ষ।
এ বিষয়ে রুদ্রনীল ঘোষ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “বিজেপির আদর্শ উদারতা ও ভদ্রতা। কিন্তু কেউ যদি একে দুর্বলতা মনে করে, তবে তারা মস্ত বড় ভুল করছেন। সৌরভ পালোধি ও তাঁর নাট্যদল গত কয়েক বছরে থিয়েটারকে শিল্পের মর্যাদা না দিয়ে শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। কৌশিক করের মতো শিল্পীর প্রতি তাঁদের আচরণ অমার্জনীয়।” রুদ্রনীল আরও বলেন, “কবির সুমনের ভাষায় বলছি, কখন কী ঘটে যায় বলা যায় না। ভবিষ্যতে মুখ খোলার আগে ভাবা ভালো।”
সভায় উপস্থিত বহু শিল্পী দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কথা তুলে ধরেন। কেউ রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে সরকারি অনুষ্ঠান থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, কাউকে নাটকের হল দেওয়া হয়নি, আবার কেউ বা অদৃশ্য শক্তির নির্দেশে হয়েছেন ‘ব্যান’। রুদ্রনীল ঘোষ দুর্নীতির মূল হোতাদের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, “বাংলার সাংস্কৃতিক জগত এখন জঞ্জালের স্তূপে পরিণত হয়েছে। ব্রাত্য বসু বা ইন্দ্রনীল সেনের মতো মানুষ, যারা শিল্পের ব্যাকরণ জেনেও বিপথে পরিচালিত হয়েছেন, তাঁদের ক্ষমা করা কঠিন। অন্যদিকে, অরূপ বা স্বরূপ বিশ্বাসের মতো লোকেরা শিল্পের ‘শ’-ও জানেন না, তাঁদের অপরাধ সম্ভবত কিছুটা কম, কারণ তাঁরা অজ্ঞতা থেকেই তা করেছেন।” তবে অপরাধের মাত্রা যাই হোক, রাজ্যের আইন অনুযায়ী দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন শিল্পীরা।