ভারত-সেশেলস সম্পর্কের ৫০ বছর: ‘সাগর’ ভিশনে দুই দেশের নতুন পথচলা, বললেন প্রধানমন্ত্রী মোদী

ভারত এবং সেশেলসের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে তিন দিনের সফরে দ্বীপ রাষ্ট্র সেশেলসে পৌঁছালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার রাজধানী ভিক্টোরিয়া বিমানবন্দরে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান সেশেলসের রাষ্ট্রপতি প্যাট্রিক হরমিনি।

ভারত-সেশেলস কৌশলগত গুরুত্ব: সফরের শুরুতেই দুই রাষ্ট্রনেতা ন্যাশনাল বোটানিক্যাল গার্ডেনে সময় কাটান এবং সেখানকার বিশালাকার আলডাবরা কচ্ছপদের খাওয়ান। প্রধানমন্ত্রী মোদী জানান, ভারত ও সেশেলসের সম্পর্ক পারস্পরিক বিশ্বাস, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং অভিন্ন সংস্কৃতির ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে। তিনি ভারতকে সেশেলসের অন্যতম প্রধান সামুদ্রিক প্রতিবেশী হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ভারতের ‘সাগর’ (SAGAR – Security and Growth for All in the Region) ভিশন বাস্তবায়নে সেশেলস এক অন্যতম প্রধান সহযোগী।

সফরের বিশেষ দিকগুলো:

  • ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে ভাষণ: এই সফরের একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হতে চলেছে প্রধানমন্ত্রীর সেশেলসের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে ভাষণ। তিনিই প্রথম কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী যিনি সেশেলসের আইনসভায় ভাষণ দেবেন।

  • ৫০তম স্বাধীনতা দিবস: ২৯ জুন সেশেলসের ৫০তম জাতীয় দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।

  • কৌশলগত অংশীদারিত্ব: ফেব্রুয়ারি মাসে রাষ্ট্রপতি হরমিনির ভারত সফরের পর এই সফর দুই দেশের মধ্যকার প্রতিরক্ষা, সমুদ্র নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক যোগসূত্র: ভারত ও সেশেলসের সম্পর্ক শুধু সমসাময়িক নয়, এর শিকড় বহু গভীরে। প্রায় ২৫৬ বছর আগে ১৭৭০ সালে যখন সেখানে প্রথম স্থায়ী বসতি স্থাপিত হয়, তখন সেই দলের ২৭ জনের মধ্যে ৫ জনই ছিলেন ভারতীয়। বর্তমানে সেশেলসের মোট জনসংখ্যার প্রতি আটজনের মধ্যে একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত। বিশেষ করে সেশেলসের বর্তমান রাষ্ট্রপতি ওয়েভেল রামকালাওয়ান-এর পূর্বপুরুষদের বাড়ি বিহারের গোপালগঞ্জে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর দুই দেশের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও পূর্বপুরুষদের সাথে জুড়ে থাকা আবেগী সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।