রাম মন্দির ট্রাস্টের কোটি টাকার দুর্নীতি? চম্পত রাইকে গ্রেফতারের দাবি তুলে তোলপাড় ফেললেন সৌগত রায়

অযোধ্যার রাম মন্দির নির্মাণে সংগৃহীত দান-দক্ষিণা নিয়ে যে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে। এই আবহে মুখ খুলেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ষীয়ান সাংসদ তথা প্রবীণ নেতা সৌগত রায়। তিনি সরাসরি এই ঘটনাকে বিজেপি সরকারের চরম ব্যর্থতা বলে অভিহিত করেছেন। আটজনকে গ্রেফতারের খবর সামনে এলেও, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) ভাইস প্রেসিডেন্ট চম্পত রাইয়ের ভূমিকা নিয়ে তিনি একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন। সৌগতবাবুর সাফ দাবি, এই দুর্নীতির জাল কতদূর ছড়িয়ে আছে তা জানতে চম্পত রাইকেও অবিলম্বে তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।

সৌগত রায় বলেন, “রাম মন্দিরের দানের টাকা নিয়ে যে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে, তা বিজেপি সরকারের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। মাত্র আটজনকে গ্রেফতার করে দায় এড়ানো সম্ভব নয়। প্রশ্ন উঠছে চম্পত রাইয়ের ভূমিকা নিয়েও। কেন তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত হবে না? এটা সম্পূর্ণভাবে বিজেপি সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতার নিদর্শন।” একই সঙ্গে তিনি উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। সৌগত রায়ের কথায়, “এত বড় একটা ঘটনা রাজ্য সরকারের নজর এড়িয়ে কীভাবে ঘটল? এতদিন মুখ্যমন্ত্রী কী করছিলেন? এটা তো তাঁরই দায়বদ্ধতা ছিল।”

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ঘটনা বিজেপির ধর্মীয় আবেগকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের আরও একটি উদাহরণ। এই ইস্যুতেই থেমে থাকেননি সৌগত রায়। লাভ জিহাদ এবং ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) নিয়েও তিনি অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিয়েছেন। লাভ জিহাদ প্রসঙ্গে তাঁর দাবি, এটি বিজেপি এবং ভিএইচপির পরিকল্পিত ‘সাম্প্রদায়িক স্লোগান’। তিনি বলেন, “এগুলো কেবল হিন্দু-মুসলিম বিভেদ তৈরির ঘৃণ্য রাজনীতি। দেশের বর্তমান বিবাহ আইনই যথেষ্ট, আলাদা কোনো আইনের প্রয়োজন নেই। এধরনের প্রচার সমাজে বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে।”

ইউসিসি নিয়েও তৃণমূলের অবস্থান আরও স্পষ্ট করেছেন সৌগত বাবু। তিনি বলেন, “আমরা ইউসিসির সম্পূর্ণ বিরোধী। মুসলিম সম্প্রদায়ের নিজস্ব ব্যক্তিগত আইন আছে, তা অটুট থাকা জরুরি।” ভারতের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও ধর্মীয় স্বাধীনতার কথা মাথায় রেখে সংখ্যালঘুদের ব্যক্তিগত আইন বজায় রাখার পক্ষেই তিনি সওয়াল করেছেন। তাঁর মতে, ইউসিসি চাপিয়ে দিলে সংখ্যালঘুদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হবে।

তৃণমূল সাংসদের এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পর রাজনৈতিক আঙিনায় বিতর্ক তুঙ্গে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বিজেপি নেতারা জানিয়েছেন, তৃণমূল কংগ্রেস শুধুমাত্র তাদের নির্দিষ্ট ভোটব্যাঙ্ককে তুষ্ট করার জন্য এধরনের অবস্থান নিচ্ছে। বিজেপির এক নেতার কথায়, “রাম মন্দির নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তদন্ত অবশ্যই হওয়া উচিত, কিন্তু সৌগতবাবু অকারণে বিজেপিকে টার্গেট করছেন। লাভ জিহাদ একটি জ্বলন্ত সমস্যা, একে অস্বীকার করা মানেই বাস্তবতাকে উপেক্ষা করা। আর ইউসিসি তো সংবিধানের নির্দেশ, যা দেশকে একসূত্রে বাঁধার জন্য প্রয়োজনীয়।” সব মিলিয়ে রাম মন্দির থেকে ইউসিসি— এই দ্বৈরথ যে আগামী দিনে রাজনীতির উত্তাপ আরও বাড়াবে, তা বলাই বাহুল্য।