ট্রাম্পের নামে এবার হায়দরাবাদে রাস্তা! ভারতকে ধন্যবাদ জানিয়ে কী বললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে এবার রাস্তার নামকরণ হলো ভারতের হায়দরাবাদে। এই বিরল সম্মান পেয়ে আপ্লুত মার্কিন প্রেসিডেন্ট। শুক্রবার তাঁর নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি পোস্ট করে তিনি ভারতের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। ট্রাম্প লিখেছেন, “ভারতের হায়দরাবাদে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প অ্যাভিনিউ’—প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে এমন সম্মান পেয়ে আমি গর্বিত। ধন্যবাদ ভারত!”

উল্লেখ্য, গত ২৩ জুন হায়দরাবাদে মার্কিন কনস্যুলেট সংলগ্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার আনুষ্ঠানিকভাবে নামকরণ করা হয়েছে ট্রাম্পের নামে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর এবং তেলেঙ্গানার উপ-মুখ্যমন্ত্রী মাল্লু ভাট্টি বিক্রমার্ক যৌথভাবে এই রাস্তার ফলক উন্মোচন করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাইলফলক বার্ষিকী উদযাপনের অঙ্গ হিসেবে আয়োজিত ‘ফ্রিডম ২৫০’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে বাণিজ্য, মহাকাশ, প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি খাতের তাবড় ব্যক্তিত্ব এবং সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তেলেঙ্গানা সরকারের এই বিশেষ পদক্ষেপকে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের এক বড় নিদর্শন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেভান্থ রেড্ডি এবং হায়দরাবাদে নিযুক্ত মার্কিন কনসাল জেনারেল লরা উইলিয়ামসও এই উদযাপনে অংশ নিয়েছিলেন। অনুষ্ঠানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে হায়দরাবাদের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের কথা বিশেষভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “হায়দরাবাদ আজ যেভাবে হাইটেক সিটি থেকে মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে, তা মার্কিন-ভারত সম্পর্কের উচ্চ-গতির গতিপথকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।”

দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার ওপর আলোকপাত করে গোর আরও যোগ করেন, “আমাদের অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি এবং ‘মিশন ইন্ডিয়া’র মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি নতুন বিনিয়োগ আনার প্রক্রিয়া চলছে। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ মানে কেবল একা আমেরিকা নয়, বরং পারস্পরিক উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলা।”

বিশ্লেষকদের মতে, হায়দরাবাদের মতো একটি প্রযুক্তি ও শিল্পপ্রধান শহরে মার্কিন প্রেসিডেন্টের নামে রাস্তার নামকরণ দুই দেশের বন্ধুত্বের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল। এটি কেবল একটি প্রতীকী সম্মান নয়, বরং আগামী দিনে প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ গবেষণার মতো কৌশলগত খাতে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘস্থায়ী সহযোগিতার প্রতি একটি অঙ্গীকার। ট্রাম্পের এই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক ঘনিষ্ঠতাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিল, যা বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহলে যথেষ্ট চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।