আইএসআই গুপ্তচর চক্রে বিরাট ঝটকা! রিষড়া থেকে গ্রেফতার রানার আরও এক হাই-প্রোফাইল সহযোগী

পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই (ISI)-এর হয়ে কাজ করার অভিযোগে ধৃত মূল অভিযুক্ত রানার নেটওয়ার্কের শিকড় যে কতটা গভীরে ছড়িয়ে রয়েছে, তা এবার স্পষ্ট হয়ে গেল। রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স বা এসটিএফ-এর জালে ধরা পড়েছে রানার আরও এক ঘনিষ্ট সহযোগী। জাফর শাম ওরফে সানি নামের ওই যুবককে হুগলির রিষড়া এলাকা থেকে অত্যন্ত নাটকীয়ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারী গোয়েন্দাদের দাবি, পুলিশি তৎপরতা ও ধরপাকড় শুরু হতেই কলকাতার তপসিয়ার বাসিন্দা সানি রিষড়ায় গিয়ে গা-ঢাকা দিয়েছিলেন। রানা রউফের সঙ্গে এই যুবকের ঠিক কী ধরনের যোগাযোগ ছিল এবং তাঁর কথিত ‘মডিউল’-এ সানি ঠিক কী ভূমিকা পালন করতেন, তা খতিয়ে দেখতেই বর্তমানে ম্যারাথন জেরা শুরু করেছেন এসটিএফ আধিকারিকরা।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ধৃত পাকিস্তানি নাগরিক রানা রউফ কাঠমান্ডু হয়ে ভুয়ো পরিচয়ে ভারতে প্রবেশ করে কলকাতায় ঘাঁটি গেড়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে ফোর্ট উইলিয়ামের সংবেদনশীল ছবি, ভিডিও এবং কৌশলগত মানচিত্র সংগ্রহের মারাত্মক অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর গতিবিধি সম্পর্কিত গোপন তথ্য হাতিয়ে তা অন্য দেশে পাচার করার ছক কষেছিল সে। রানা গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই তাঁর সহযোগীদের সন্ধানে চিরুনি তল্লাশি শুরু করে এসটিএফ। এর আগে তপসিয়ার বাসিন্দা ইমরান ও ইজাজ আলিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, যারা রানার ভুয়ো পরিচয়পত্র তৈরি এবং নানা কার্যকলাপে সাহায্য করত। সানির গ্রেফতারির ফলে এই চাঞ্চল্যকর দেশবিরোধী মামলায় মোট ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল চারটিতে।
তদন্তকারীদের কপালে ভাঁজ ফেলেছে রানার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া একটি গোপন ডায়েরি। ওই ডায়েরিতে নেপাল, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ছাড়াও শ্রীলঙ্কার বেশ কিছু সন্দেহজনক ফোন নম্বর পাওয়া গিয়েছে। গোয়েন্দাদের অনুমান, গ্রেফতারের আগে নিজের মোবাইল ফোনটি পুরোপুরি নষ্ট করে ফেললেও, এই আন্তর্জাতিক নম্বরগুলির সূত্র ধরেই রানার বিশাল অপরাধ চক্রের জাল ভেদ করা সম্ভব হবে। এছাড়া পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও ছিল রানার, যেখানে তাঁর জন্য পাভেল নামের এক সহযোগী অপেক্ষা করছিল বলে খবর। সানিকে জেরা করে এই আন্তর্জাতিক স্পাই নেটওয়ার্কের আরও কোনো গোপন তথ্য বা স্লিপার সেলের সন্ধান মেলে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।