অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মামলা! সরকারি জমি দখল ও মাটি পাচারের অভিযোগে সরগরম নদীয়া

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের বাতাবরণে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসছে। এরই মধ্যে নদিয়ার নাকাশিপাড়ায় সরকারি জমি দখল ও দুর্নীতির অভিযোগে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে কৃষ্ণনগর জেলা আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে। এই মামলায় অত্যন্ত গুরুতর সব অভিযোগ তোলা হয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

মামলাকারীদের অভিযোগ, নাকাশিপাড়া থানার অন্তর্গত প্রায় ১১০০ বিঘা সরকারি জমি দীর্ঘদিন ধরে বেআইনিভাবে দখল করে রাখা হয়েছে। জানা যায়, বাম আমলে একটি বেসরকারি সংস্থা জমিটি লিজে পেলেও, ২০০৫ সালে কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর জমিটি কার্যত সরকারি নিয়ন্ত্রণেই ফিরে আসে। কিন্তু পরবর্তীতে ২০১৬ সালে তৃণমূল দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার পর ওই জমির বড় অংশ স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের কবজায় চলে যায় বলে অভিযোগ।

মামলাকারীদের দাবি, প্রায় সাড়ে ৪০০ বিঘা জমি থেকে লক্ষ লক্ষ টাকার মাটি অবৈধভাবে বিক্রি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, কোটি কোটি টাকার মূল্যবান গাছ কেটে পাচারের অভিযোগও তোলা হয়েছে। অভিযোগের এখানেই শেষ নয়, মামলায় আরও ভয়ংকর ও স্পর্শকাতর অভিযোগ আনা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, এলাকার কয়েকজন আদিবাসী মহিলা দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দ্বারা যৌন হেনস্তা ও শোষণের শিকার হয়েছেন। প্রশাসনের একাংশের প্রত্যক্ষ মদতেই এই অপরাধমূলক কাজ চলত বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

কৃষ্ণনগর জেলা আদালতের আইনজীবী শীর্ষেন্দু দাস জানিয়েছেন, নাকাশিপাড়ার বিজেপি নেতা অশোক সরকার, রঞ্জিত বিশ্বাস, নেতাই সাতরা-সহ একাধিক ব্যক্তি এই মামলা দায়ের করেছেন। তাঁদের আরও বিস্ফোরক দাবি, সরকারি জমি থেকে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা তোলা হয়েছে এবং সেই দুর্নীতির অর্থের একটি অংশ স্থানীয় নেতাদের মাধ্যমে ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পৌঁছাত।

আদালত এই অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা বিচার করে নাকাশিপাড়া থানাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। আগামী ২৭ জুন মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা। বর্তমানে পুরো ঘটনায় রাজনৈতিক মহলের নজর এখন আদালতের দিকে। যদিও এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে দুর্নীতির এই অভিযোগে নাকাশিপাড়াসহ গোটা জেলায় রাজনৈতিক উত্তাপ যে কয়েক গুণ বেড়ে গেছে, তা বলাই বাহুল্য।