বদলে যাবে ভারতের বিমানবন্দর! আদানি গ্রুপের নতুন প্রকল্পে হোটেল, মল ও অফিসের হাতছানি

আদানি এয়ারপোর্ট হোল্ডিংস লিমিটেড (AAHL)-এর সহযোগী সংস্থা আদানি এয়ারপোর্ট সিটি লিমিটেড (AACL) ভারতের বিমান চলাচল ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। দেশের ছয়টি প্রধান বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে আধুনিক ‘এয়ারপোর্ট সিটি’ গড়ে তুলতে সংস্থাটি প্রাথমিক পর্যায়ে ২০,০০০ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। মুম্বাই, নভি মুম্বাই, আহমেদাবাদ, লখনউ, জয়পুর এবং গুয়াহাটি বিমানবন্দরকে ঘিরে প্রায় ৬৫৫ একর জমিতে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হবে।

এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো বিমানবন্দরকে কেবল ফ্লাইট পরিচালনার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না রেখে সেগুলোকে বাণিজ্য, পর্যটন এবং নগর উন্নয়নের একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করা। প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে প্রায় ২২ মিলিয়ন বর্গফুট মিশ্র-ব্যবহারের পরিকাঠামো নির্মাণ করা হবে। মোট বিনিয়োগের ৭০ শতাংশই বরাদ্দ করা হয়েছে মুম্বাই ও নভি মুম্বাইয়ের জন্য, যেখানে ৪৪০ একর এলাকা জুড়ে বিশ্বমানের সুযোগ-সুবিধা তৈরি করা হবে।

এএসিএল-এর পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি এয়ারপোর্ট সিটিতে থাকবে আধুনিক হোটেল, শপিং মল, বিনোদন কেন্দ্র, কনভেনশন সেন্টার এবং অফিস স্পেস। সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বা দুবাই ইন্টারন্যাশনাল বিমানবন্দরের আদলে তৈরি এই এলাকাগুলো এমনভাবে নকশা করা হচ্ছে, যাতে পর্যটক ও স্থানীয়রা খুব সহজেই পায়ে হেঁটে যাতায়াত করতে পারেন। এয়ারপোর্ট, মেট্রো এবং শহরের পরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে এই সিটিগুলোকে যুক্ত করা হবে।

এএএইচএল-এর পরিচালক জিৎ আদানি বলেন, “ভারতের দ্রুত বর্ধনশীল বিমান চলাচল খাতে আমরা বিমানবন্দরগুলোকে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের প্রধান স্তম্ভ হিসেবে দেখতে চাই। এটি যাত্রীদের অভিজ্ঞতা যেমন উন্নত করবে, তেমনি টেকসই নগর উন্নয়নের এক নতুন মানদণ্ড তৈরি করবে।”

এরই অংশ হিসেবে IHG Hotels & Resorts-এর সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে পাঁচটি বিলাসবহুল হোটেল নির্মাণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে, যার মধ্যে ভারতে প্রথমবার ‘কিম্পটন’ ব্র্যান্ডের হোটেল চালু হতে যাচ্ছে। নির্মাণ ও নকশার কাজে লারসেন অ্যান্ড টুব্রো, টাটা প্রজেক্টস এবং সিবিআরই-এর মতো আন্তর্জাতিক ও জাতীয় খ্যাতিসম্পন্ন সংস্থাগুলো কাজ করছে। পরিবেশের সুরক্ষায় এই প্রকল্পগুলো ইতিমধ্যেই ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল থেকে LEED গোল্ড প্রি-সার্টিফিকেশন লাভ করেছে, যা আদানি গ্রুপের পরিবেশবান্ধব নির্মাণের অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে।