তদন্তের জালে বড় রাঘববোয়াল? তারাতলা ট্র্যাজেডি ঘিরে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য

তারাতলা বিপর্যয়ে যখন শোকের আবহ, ঠিক তখনই এই ঘটনায় রাজনৈতিক সমীকরণ নতুন মোড় নিল। কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের প্রাক্তন ওএসডি (OSD) কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটক করেছে কলকাতা পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী উভয় শিবিরেই তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টে নাগাদ কালীচরণবাবু কলকাতা পুরসভা থেকে বেরিয়ে যান। লালবাজার থেকে তলব আসার পরই তিনি সিট-এর আধিকারিকদের মুখোমুখি হতে যান। সেখানে যাওয়ার পরেই তাঁকে আটক করা হয় বলে জানা গিয়েছে। তারাতলার ভয়াবহ এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার তদন্তে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) ক্রমাগত তথ্য সংগ্রহ করছে, আর সেই সূত্র ধরেই এবার উঠে এল কালীচরণবাবুর নাম।

তারাতলা কাণ্ড নিয়ে এদিন বিধানসভাতেও প্রবল উত্তাপ ছড়ায়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের দিকে তোপ দাগেন। শুভেন্দু এদিন বিধানসভায় দাঁড়িয়ে গর্জে ওঠেন, “আপনার ‘কালী’কে তুললে সব বেরিয়ে যাবে। কলকাতা কর্পোরেশনে কালী না বললে কোনো প্ল্যান হয় না।” মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটকের ঘটনায় বিরোধী শিবিরের দাবি, দুর্নীতির শিকড় অনেক গভীরে।

অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “শুধুমাত্র কয়েকজনকে সামনে রেখে বড় নামগুলিকে আড়াল করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে। যদি প্রাক্তন মেয়রের কোনো দায় থাকে, তবে তাঁকেও গ্রেপ্তার করা উচিত। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে শুধু বিধানসভায় বড় নাম ব্যবহার করা যেন না হয়।”

ইতিমধ্যেই তারাতলা কাণ্ডে গোডাউনের মালিক শম্ভুনাথ বেহরা সহ মোট ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, শম্ভুনাথকে ধরতে প্রথমে হিমশিম খেতে হয় তদন্তকারীদের। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে এবং আবাসনের কমিটির সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করে শেষ পর্যন্ত তাঁকে একটি ফ্ল্যাট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। শম্ভুনাথের ওই আবাসনে ৬টি ফ্ল্যাট রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

গোটা ঘটনায় কলকাতা পুলিশ একটি সিট গঠন করেছে। একের পর এক গ্রেপ্তারি এবং রাজনৈতিক নেতাদের একে অপরকে নিশানা করার ঘটনায় পরিস্থিতি জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। এখন দেখার, সিট-এর জিজ্ঞাসাবাদের মুখে কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় কী তথ্য দেন এবং এই তদন্ত কতদূর পর্যন্ত পৌঁছায়। আপাতত তারাতলা কাণ্ড রাজ্যের প্রশাসনিক মহলে বড় ধরনের ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে।