নেতিবাচক শক্তির দাপট? বাড়ির প্রবেশদ্বারে আজই রাখুন এই বিশেষ জিনিস, দূর হবে বাস্তুদোষ!

বাস্তুশাস্ত্র মতে, আমাদের বাড়ি কেবল ইঁট-পাথরের কাঠামো নয়, বরং এটি একটি শক্তির আধার। অনেক সময় দেখা যায়, পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যের অবনতি, ব্যবসায় মন্দা বা সন্তানদের পড়াশোনায় অমনোযোগিতার মতো সমস্যা লেগেই থাকে। জ্যোতিষবিদদের মতে, এই সব সমস্যার মূলে থাকতে পারে অশুভ শক্তি বা কুনজরের প্রভাব। বাস্তুশাস্ত্রের নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো নেতিবাচক শক্তি সাধারণত সদর দরজা বা জানলা দিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে। তাই বাড়ির প্রবেশদ্বারকে সুরক্ষিত রাখা অত্যন্ত জরুরি।
প্রবেশদ্বারকে ত্রুটিমুক্ত রাখতে সপ্তাহে অন্তত দু’বার, বিশেষ করে মঙ্গলবার ও শনিবার ঘর মোছার জলে সামান্য রক সল্ট বা সামুদ্রিক লবণ মিশিয়ে নিন। এই লবণ জল দিয়ে সদর দরজা ও চারপাশ পরিষ্কার করলে নেগেটিভ এনার্জি দূর হয়ে ইতিবাচক শক্তির সঞ্চার হয়।
অনেকেই গৃহস্থালির ক্ষেত্রে ফিটকিরির গুণাগুণ সম্পর্কে অবগত নন। যদি মনে হয় পরিবার বা ব্যবসা কুনজরের শিকার, তবে একটি পরিষ্কার কালো কাপড়ে এক টুকরো ফিটকিরি বেঁধে বাড়ির সদর দরজার ভেতরে বা বাইরে ঝুলিয়ে দিন। কর্মক্ষেত্রে বা দোকানের কাউন্টারেও এটি লুকিয়ে রাখতে পারেন, যা আপনাকে সব ধরনের অশুভ নজর থেকে রক্ষা করবে।
বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, বাড়ির সদর দরজার চৌকাঠ অত্যন্ত পবিত্র। এই চৌকাঠকে আরও শক্তিশালী করতে ও কুনজর আটকাতে সদর দরজার ওপর কেশর ও গরুর ঘি মিশিয়ে ‘স্বস্তিক’ বা ‘ওম’ চিহ্ন আঁকুন। এছাড়াও দরজার উপরে পঞ্চমুখী হনুমানের ছবি বা ঘোড়ার নাল স্থাপন করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়, যা বাড়িকে সুরক্ষা বলয়ে ঢেকে রাখে।
সূর্যাস্তের সময় অশুভ শক্তির প্রভাব সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে বলে শাস্ত্রজ্ঞরা মনে করেন। প্রতিদিন সন্ধ্যায় কর্পূরের ধোঁয়া ব্যবহার করা বাস্তুদোষ কাটানোর অন্যতম সেরা উপায়। একটি মাটির প্রদীপ বা পিতলের পাত্রে ২-৩টি কর্পূরের টুকরো ও ২টি লবঙ্গ রেখে আগুন ধরিয়ে দিন। এর ধোঁয়া বাড়ির প্রতিটি কোণায় ছড়িয়ে দিন। এটি বাড়ির পরিবেশকে শুদ্ধ ও পবিত্র রাখে এবং পরিবারের ওপর আসা অশুভ ছায়া দূর করে। বাস্তুশাস্ত্রের এই সাধারণ নিয়মগুলো মেনে চললে বাড়িতে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় থাকে। তাই ছোটখাটো এই টোটকাগুলো মেনে বাড়ির পরিবেশকে সবসময় ইতিবাচক রাখা আমাদের নিজেদের হাতেই।