শোকের ছায়া বিনোদন জগতে! চিরনিদ্রায় ‘তারক মেহতা’ খ্যাত তন্ময়ের বাবা অরবিন্দ ভেকারিয়া

বিনোদন জগতে নেমে এল গভীর শোকের ছায়া। প্রয়াত হলেন প্রবীণ গুজরাতি অভিনেতা, পরিচালক এবং প্রখ্যাত নাট্য ব্যক্তিত্ব অরবিন্দ ভেকারিয়া। কয়েক দশকব্যাপী বর্ণময় কর্মজীবন শেষে না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন তিনি। তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা বিনোদন জগত। এই সংবাদটি নিশ্চিত করেছে ‘সিনে অ্যান্ড টিভি আর্টিস্টস অ্যাসোসিয়েশন’ (CINTAA)। সোশ্যাল মিডিয়ায় শ্রদ্ধা জানিয়ে সংস্থাটি লিখেছে, “প্রবীণ অভিনেতা ও নাট্য ব্যক্তিত্ব শ্রী অরবিন্দ ভেকারিয়ার মৃত্যুতে সিন্টা গভীর শোক প্রকাশ করছে। শিল্পীর আত্মার শান্তি কামনা করি।”
অরবিন্দ ভেকারিয়ার প্রয়াণ তাঁর পরিবারের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। বিশেষ করে তাঁর ছেলে, জনপ্রিয় কমেডি শো ‘তারক মেহতা কা উল্টা চশমা’-র ‘বাঘা’ খ্যাত অভিনেতা তন্ময় ভেকারিয়ার জন্য এই আঘাত অত্যন্ত বেদনাদায়ক। উল্লেখ্য, এই শোকের মাত্র আট মাস আগেই তন্ময় তাঁর মাকে হারিয়েছিলেন। পরপর দুবার এমন বিপর্যয়ে ভেকারিয়া পরিবার শোকস্তব্ধ। তন্ময় সম্প্রতি শ্যুটিং সেটে মায়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগঘন হয়ে পড়েছিলেন, আর সেই ক্ষত না শুকাতেই বাবাকে হারানোর খবরে ভেঙে পড়েছেন অভিনেতা।
প্রবীণ এই শিল্পীর অবদান স্মরণ করে শোকবার্তা দিয়েছেন ‘তারক মেহতা কা উল্টা চশমা’-র স্রষ্টা ও প্রযোজক অসিত কুমার মোদী। তিনি বলেন, “অরবিন্দ জি শুধু তন্ময়ের বাবা ছিলেন না, তিনি গুজরাতি থিয়েটার এবং টেলিভিশনের একজন দিকপাল ছিলেন। ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে জানার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। তাঁর বিনয়, শিল্পের প্রতি নিষ্ঠা এবং আলাপচারিতার উষ্ণতা আমাদের চিরকাল মনে থাকবে।” অসিত আরও জানান, অরবিন্দ জি নিজেও ‘তারক মেহতা কা উল্টা চশমা’-র সঙ্গে অতিথি চরিত্রে যুক্ত ছিলেন, যা আজও দর্শকদের স্মৃতিতে অম্লান। টিএমকেওসি পরিবার এই কঠিন সময়ে তন্ময়ের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে।
গুজরাতি থিয়েটার ও চলচ্চিত্র জগতে অরবিন্দ ভেকারিয়া ছিলেন এক শ্রদ্ধেয় নাম। অভিনেতা, পরিচালক এবং মঞ্চশিল্পী—তিনটি ভূমিকাতেই তিনি সমান দক্ষতা দেখিয়েছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে ছিল ‘যশোদা’, ‘ছানু চমকলো’ এবং ‘রুপিয়ো নাচ নাচাভে’-র মতো কালজয়ী গুজরাতি প্রযোজনা। কেবল মঞ্চেই নয়, টেলিভিশনের জনপ্রিয় সুপারহিরো সিরিজ ‘শক্তিমান’-এও তাঁর অভিনয় দর্শকদের মনে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছিল।
থিয়েটার জগতের দীর্ঘ পথ চলায় তিনি অজস্র নতুন শিল্পীকে অনুপ্রাণিত করেছেন। বিনয়ী স্বভাবের মানুষ অরবিন্দ জি যেমন তাঁর অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের হাসাতেন, তেমনই নাট্যমঞ্চের গম্ভীর চরিত্রেও তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। অরবিন্দ ভেকারিয়া চলে গেলেও তাঁর শিল্পকর্ম এবং দর্শনের মধ্য দিয়ে তিনি ভক্তদের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবেন। তাঁর এই প্রয়াণে গুজরাতি বিনোদন জগত এক অভিভাবককে হারাল। এই কঠিন সময়ে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, ভেকারিয়া পরিবারকে যেন এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি দান করেন।