কারাকাসে মৃত্যুমিছিল: ভয়াবহ কম্পনে ধুলোয় মিশল ঘরবাড়ি, সাহায্যের হাত বাড়াল আমেরিকা-সহ একাধিক দেশ

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকা এখন এক আতঙ্কের নাম। বুধবার আঘাত হানা জোড়া শক্তিশালী ভূমিকম্পে তছনছ হয়ে গেছে বিস্তীর্ণ অঞ্চল। বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভেনেজুয়েলার স্বাস্থ্যমন্ত্রী কার্লোস আলভারাদো নিশ্চিত করেছেন যে, ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা ২৩৫ জন নাগরিককে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেছেন। শতাব্দীর ইতিহাসে এটিই ভেনেজুয়েলার সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর মধ্যে অন্যতম।

ভূমিকম্পের মুহূর্তগুলোর বর্ণনা দিতে গিয়ে কারাকাসের এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ‘‘প্রথম কম্পনের সময় মাটির নিচ থেকে যেন এক বিকট গর্জন উঠে আসছিল। দেয়ালগুলো দুলছিল, মনে হচ্ছিল আমি যেন জলের মধ্যে ভাসছি। চারপাশে ফাটল দেখা দেওয়ার পর প্রাণের ভয়ে আমি কেবল মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে প্রার্থনাই করছিলাম।’’ এমন আতঙ্কের দৃশ্য কেবল ওই মহিলার নয়, কারাকাসের লক্ষ লক্ষ মানুষের। দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে রাজধানী থেকে যে দৃশ্য সামনে এসেছে, তা হৃদয়বিদারক। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া প্রিয়জনদের উদ্ধারে এখন মরিয়া হয়ে খুঁজছেন স্বজনরা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে বিপর্যয়ের ভয়াবহতা স্পষ্ট। কোথাও দেখা যাচ্ছে রাস্তায় তৈরি হয়েছে বিশাল ফাটল, আবার কোথাও বহুতলের ছাদে থাকা সুইমিং পুল থেকে জল ঝরনার মতো নিচে আছড়ে পড়ছে। বিমানবন্দরের টার্মিনালে থাকা যাত্রীদের আর্তনাদ এবং বহুতল ভবন থেকে প্রাণভয়ে বাসিন্দাদের রাস্তায় নেমে আসার দৃশ্য দেখে শিউরে উঠছে বিশ্ব। ধুলোর ঝড়ে ঢাকা পড়েছে চারপাশ, যা উদ্ধারকার্যকেও কঠিন করে তুলেছে।

এই কঠিন পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার পাশে দাঁড়িয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। যুক্তরাষ্ট্র, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, মেক্সিকো, বলিভিয়া, চিলি, পানামা এবং ইকুয়েডরের সরকার ভেনেজুয়েলাকে মানবিক সহায়তা প্রদানের প্রস্তাব দিয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী কার্লোস আলভারাদো আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেকে আটকা পড়ে থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। উদ্ধারকর্মীরা অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন, কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষত সারিয়ে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে ভেনেজুয়েলার দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন।