পাউরুটির দামে বড় ছ্যাঁকা! স্যান্ডউইচ-টোস্টের খরচ বাড়ছে কত? জেনে নিন নতুন দর

সাধারণ মানুষের প্রাতঃরাশ থেকে শুরু করে বিকেলের জলখাবার—সবারই ভরসা পাউরুটি। কিন্তু এবার সেই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কোপ পড়তে চলেছে। জ্বালানি সংকটের জেরে কার্যত দিশেহারা রাজ্যের বেকারি শিল্প। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, পাউরুটির দাম এক ধাক্কায় ৪ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে বিভিন্ন সংস্থা।
কেন এই দাম বৃদ্ধি? পাউরুটির উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার পেছনে মূল কারণ কেন্দ্রীয় সরকারের এক নতুন নির্দেশিকা। সম্প্রতি পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক দেশের তিনটি তৈল সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছে, পেট্রল পাম্পগুলি থেকে খোলা পাত্র, ড্রাম বা জ্যারিকেনে ডিজেল বিক্রি করা যাবে না। শুধুমাত্র ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক গাড়িতেই জ্বালানি দেওয়া যাবে। কিন্তু রাজ্যের প্রায় ৩ হাজার বেকারি ও বিস্কুট কারখানা তাদের উৎপাদনের জন্য ডিজেল জেনারেটরের ওপর নির্ভরশীল। এই নির্দেশের ফলে জ্বালানির অভাবে কারখানাগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
বেকারি অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, জ্বালানি না মেলায় ইতিমধ্যেই ৯৫ শতাংশ কারখানা তাদের উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। গ্রামাঞ্চলের অনেক ছোট বেকারি বন্ধ হয়ে গেছে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে বাজারে।
নতুন রেট চার্ট বাজারে মডার্ন, ব্রিটানিয়া, মেট্রো গোল্ড, শুভনারায়ণ এবং ব্যারনের মতো সংস্থাগুলি পাউরুটির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে:
হোয়াইট স্লাইসড ব্রেড (৪০০ গ্রাম): ৩৬ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৪০ টাকা (৪ টাকা বৃদ্ধি)।
হোলউইট ও মাল্টিগ্রেন ব্রেড (৪০০ গ্রাম): এই ধরনের পাউরুটির ক্ষেত্রে দাম বাড়ছে ৫ টাকা পর্যন্ত।
সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি এই সংকটময় পরিস্থিতিতে ২৫ লক্ষ শ্রমজীবী মানুষের রুজি-রোজগার অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। শুধু তাই নয়, রাজ্যের বহু হাসপাতাল, নার্সিং হোম ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থায় পাউরুটির জোগান ব্যাহত হচ্ছে। এই জরুরি অবস্থার প্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গ বেকারি অ্যাসোসিয়েশন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের আর্জি জানিয়েছে। অ্যাসোসিয়েশনের স্পষ্ট বার্তা, কেন্দ্রের এই নির্দেশিকা দ্রুত প্রত্যাহার না হলে বাজারের পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।
এখন দেখার, রাজ্য সরকার এই সংকট নিরসনে কী পদক্ষেপ নেয় এবং সাধারণ মানুষের হেঁশেলে স্বস্তি ফিরবে কি না।