‘তৃণমূল একটি বন্ধ অধ্যায়!’ মমতা-অভিষেককে তীব্র আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

বিধানসভায় দাঁড়িয়ে প্রাক্তন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস, বিশেষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার বাজেট অধিবেশনের প্রাক্কালে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেন, “তৃণমূল কংগ্রেস এখন একটি বন্ধ অধ্যায়। তাঁরা আর কোনোদিন ফিরতে পারবেন না।”

সম্পত্তি নিলামের হুঁশিয়ারি এদিন নাম না করলেও সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের এলাকা উল্লেখ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমরা এমন একটি বিল আনছি যার মাধ্যমে রাজনীতিবিদদের অবৈধ সম্পত্তি নিলাম করার আইনি ক্ষমতা পাবে সরকার।” উল্লেখ্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি যথাক্রমে হরিশ মুখার্জী রোড ও হরিশ চ্যাটার্জী স্ট্রিটে অবস্থিত। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত নেতাদের বিরুদ্ধে বড়সড় আইনি পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

দুর্নীতি ও অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কড়া অবস্থান মুখ্যমন্ত্রী এদিন দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে লড়াই জারি রাখার অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন, “আমি শওকত বা জাহাঙ্গীরের মতো ব্যক্তিদের ছাড়ব না।” তিনি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের এক ঠিকাদারের মাধ্যমে ১০ কোটি টাকা আই-প্যাক (I-PAC)-এ স্থানান্তরের অভিযোগ তুলে সরব হন। একই সঙ্গে তিনি দলের প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ও সমর মুখোপাধ্যায়ের প্রতি ব্যক্তিগত শ্রদ্ধার কথা জানালেও, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো আপস না করার বার্তা দিয়েছেন।

অনুপ্রবেশকারী বিতর্কে কঠোর বার্তা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানান, তাঁর সরকার বাংলার নিরাপত্তা ও সুরক্ষাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তিনি দাবি করেন, “এখন পর্যন্ত প্রায় ১০,০০০ অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে বহিষ্কার করা হয়েছে। রাজ্যকে নিরাপদ করতে যা যা করার, তা করা হবে।” তিনি আরও বলেন, সরকারি কোষাগারের টাকা কোনো অনুপ্রবেশকারীর ভরণপোষণের জন্য ব্যয় করা হবে না।

বিরোধী নেতাদের বিদ্রূপ বিধানসভায় বিরোধী দলের বিধায়কদের উদ্দেশে শুভেন্দু বলেন, “আপনারা আপনাদের নিজের বুথেই হেরেছেন। এখন বাড়িতে বসে আমার ভাষণ শুনুন।” তৃণমূলের অন্দরে বিধায়কদের সাসপেনশন নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, দলটির আদর্শ বা নীতি বলতে এখন আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।

মুখ্যমন্ত্রীর এই আক্রমণের পর রাজ্যের রাজনৈতিক আবহাওয়া যে চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনে এই ‘সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত’ সংক্রান্ত বিলটি বিধানসভায় পেশ হওয়ার পর তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কী প্রতিক্রিয়া আসে।