তিন বছরের শিশুকন্যাকে ধর্ষণ ও হত্যা: দোষী সাব্যস্ত ৬৫ বছরের বৃদ্ধ, মিলবে কি মৃত্যুদণ্ড?

এক নিষ্পাপ শিশুর ওপর অমানবিক নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ৬৫ বছর বয়সী ভীমরাও কাম্বলেকে দোষী সাব্যস্ত করল পুনের বিশেষ আদালত। ২০১৬ সালের ১ মে নাসরাপুরের এই ঘটনা গোটা দেশকে স্তম্ভিত করে দিয়েছিল। তিন বছর বয়সী এক শিশুকন্যাকে অপহরণ, পাশবিক ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি এখন চূড়ান্ত শাস্তির অপেক্ষায়।

কী ঘটেছিল সেই অভিশপ্ত দিনে? অভিযুক্ত ভীমরাও কাম্বলে তিন বছরের ওই শিশুকে অপহরণ করে নিয়ে যায় এবং তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালায়। ঘটনার পরই শিশুটিকে হত্যা করে সে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তৎকালীন সময়ে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। বিশেষ বিচারক এস.আর. সালুংখের এজলাসে দীর্ঘ শুনানি শেষে প্রমাণিত হয়েছে যে, অভিযুক্ত ব্যক্তিই এই জঘন্য অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিল।

প্রমাণিত অপরাধ বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি অজয় মিসর জানিয়েছেন, অপহরণ, শ্লীলতাহানি, ধর্ষণ, হত্যা এবং শিশু যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ (পকসো) আইনের বিভিন্ন ধারায় আনা যাবতীয় অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। শুনানির সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে নির্দোষ দাবি করার চেষ্টা করেছিল। সে যুক্তি দিয়েছিল যে, বাছুর দেখানোর সময় শিশুটির পা পিছলে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে। তবে ফরেনসিক রিপোর্ট ও অন্যান্য সাক্ষ্যপ্রমাণ তার সেই দাবিকে পুরোপুরি মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে।

সাজার দিকে তাকিয়ে সবাই আগামী ২৯ জুন অভিযুক্তের সাজা ঘোষণা করা হবে। নাসরাপুরের স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি তথা মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছেন। এই ধরনের জঘন্য অপরাধের পর বিচারের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আদালত কী রায় দেয়, তা এখন দেখার বিষয়।