তিস্তায় চিনের ছায়া! ভারতের উদ্বেগ বাড়িয়ে বেজিংয়ের সঙ্গে বড় সমঝোতায় বাংলাদেশ

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বর্তমান চিন সফর ঘিরে তৈরি হয়েছে প্রবল ভূ-রাজনৈতিক জল্পনা। ভারতের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে ঢাকা ও বেজিংয়ের মধ্যে নতুন করে হওয়া সমঝোতা। বৃহস্পতিবার বেজিংয়ে চিনের জলসম্পদ মন্ত্রী লি গুওইয়িং-এর সঙ্গে বৈঠকের পর এই সমঝোতার কথা প্রকাশ্যে আসে।

ভারতের জন্য অস্বস্তির কারণ কী? দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের সঙ্গে তিস্তার জলবণ্টন চুক্তি অমীমাংসিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তার ওপর চলতি বছর গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। এমন এক নাজুক সময়ে তিস্তা ও অন্যান্য নদী ব্যবস্থাপনায় চিনের সরাসরি হস্তক্ষেপ ভারতের কৌশলগত নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, তিস্তা প্রকল্পের অছিলায় চিনা প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞরা যদি ভারতের ‘চিকেনস নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডোরের কাছাকাছি নদী ব্যবস্থাপনার কাজ শুরু করেন, তবে তা ভারতের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বৈঠকে কী চাইলেন তারেক রহমান? বেজিং সফরে গিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি চিনের কাছে তিস্তা ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের জন্য কারিগরি সহায়তা চেয়েছেন। তিনি বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি কমানো এবং পরিবেশ রক্ষার দোহাই দিয়ে নদী খননের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। বিএসএস (BSS)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থাপনার আধুনিকীকরণে চিনা সহায়তার প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন চিনা মন্ত্রী লি গুওইয়িং। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বাংলাদেশের জলসম্পদ উন্নয়নে বেজিং সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

তারেক রহমানের সফর ও চিনের আগ্রহ বিএনপি নেতা তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই তাঁর প্রথম বড় কূটনৈতিক সফর। ডালিয়ানে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে যোগ দেওয়ার পর বুধবার তিনি বেজিং পৌঁছান। সেখানে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াং-এর সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তিস্তা প্রকল্পকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ও চিনের এই গভীর বোঝাপড়া দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের প্রভাব খর্ব করার একটি বড় কৌশল হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, ভারতের কূটনৈতিক স্তরে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা কীভাবে করা হয়।