দায়িত্ব নিয়েই ‘অ্যাকশন’ মোডে শিলিগুড়ির প্রশাসক! জনবহুল এলাকায় মেলা নিষিদ্ধ, কাজে ঢিলেমিতে শোকজ

শিলিগুড়ি পুরনিগমের নতুন প্রশাসনিক জমানার শুরুতেই কড়া মেজাজে ধরা দিলেন নবনিযুক্ত প্রশাসক আর বিমলা। দায়িত্ব নিয়েই বৃহস্পতিবার ভোররাতে ঝটিকা সফরে নেমে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, কাজে ফাঁকি বা গাফিলতি কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
কাজে গাফিলতি, সরাসরি শোকজ: ভোররাতে সেবক মোড় এবং বিধান মার্কেট এলাকা পরিদর্শনে গিয়েই মেজাজ হারান প্রশাসক। দেখেন, সাফাই কর্মীরা কাজে থাকলেও তাঁদের তদারকি করার জন্য কোনো সুপারভাইজারই উপস্থিত নেই। প্রশাসনিক কর্তব্যে এই খামতি দেখে ক্ষুব্ধ প্রশাসক সাফ জানিয়ে দেন, সাধারণ মানুষের করের টাকায় বেতন নিয়ে কাজে ঢিলেমি চলবে না। নির্দিষ্ট সময়ে ডিউটিতে অনুপস্থিত সুপারভাইজারদের অবিলম্বে শোকজ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
শহর পরিষ্কারের নতুন ‘টাইমলাইন’: শহরকে আবর্জনামুক্ত করতে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন প্রশাসক। নতুন নিয়ম অনুযায়ী:
ভোর ৬টা থেকে সকাল ৮টার মধ্যে শহরের সমস্ত আবর্জনা পরিষ্কার করতে হবে।
প্রয়োজনে রাতে যখন রাস্তাঘাট ফাঁকা থাকে, সেই সময়েই সাফাইয়ের কাজ সারতে হবে।
দিনের আলোয় শহরের বুকে আর কোনোভাবেই আবর্জনা জমে থাকা চলবে না।
শহরে মেলা নিষিদ্ধের ঘোষণা: সাফাই অভিযানের পাশাপাশি শহরের যানজট নিরসনে এক বড়সড় নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আর বিমলা। তিনি ঘোষণা করেছেন, শহরের প্রাণকেন্দ্রে আর কোনো মেলার অনুমতি দেওয়া হবে না। শহরের মাঝখানে মেলা আয়োজনের ফলে তীব্র যানজট তৈরি হয় এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ে। এখন থেকে সমস্ত বড় মেলা শহর থেকে সরিয়ে কাওয়াখালি বা গান্ধি ময়দানের মতো খোলামেলা স্থানে আয়োজন করতে হবে।
পরিকাঠামোর দিকে নজর: একই দিনে কাঞ্চনজঙ্ঘা ক্রীড়াঙ্গন পরিদর্শনে গিয়ে স্টেডিয়ামের বেহাল দশা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রশাসক। ভাঙাচোরা দেওয়াল ও ছাদ চুইয়ে জল পড়ার ঘটনা দেখে উপস্থিত ইঞ্জিনিয়ারদের কড়া ভাষায় সতর্ক করেন এবং দ্রুত মেরামতির নির্দেশ দেন।
প্রথম দিনেই প্রশাসকের এই কঠোর অবস্থান শিলিগুড়ির প্রশাসনিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাধারণ মানুষ অবশ্য প্রশাসকের এই তৎপরতাকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন।