‘ওই তো, আমার বউ…’ ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রিয়জনকে চিনিয়ে দিল একটি গামছা! এক অবিশ্বাস্য উদ্ধারের গল্প

তারাতলার নির্মীয়মাণ গুদামে ছাদ ভেঙে পড়ার ঘটনায় যখন চারদিকে শোকের মাতম, তখন এক টুকরো গামছা যেন হয়ে উঠল আশার আলো। ঝাড়খণ্ডের চাকুলিয়ার বাসিন্দা প্রদ্যুৎ মুন্ডা ও তাঁর স্ত্রীও সেই দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিলেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে যখন অগণিত মানুষ চাপা পড়ে ছটফট করছেন, তখন অসাধ্য সাধন করলেন প্রদ্যুৎ।

গামছাই ফিরিয়ে দিল প্রাণ: ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করার সময় প্রদ্যুৎ হঠাৎ লক্ষ্য করেন, মাটির নিচে কোথাও একটু রঙ দেখা যাচ্ছে। ভালো করে তাকিয়েই বুক কেঁপে ওঠে তাঁর। স্ত্রীকে যে গামছাটি জড়িয়ে থাকতে দেখেছিলেন তিনি, সেই গামছার কোণটাই আটকে আছে ধ্বংসস্তূপের খাঁজে। প্রদ্যুৎ চিৎকার করে উদ্ধারকারীদের জানান, “ওই তো, আমার বউ!” সেই সূত্র ধরেই উদ্ধারকারীরা দ্রুত কাজ শুরু করেন এবং ধ্বংসস্তূপের গভীর থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় প্রদ্যুতের স্ত্রীকে। বর্তমানে তিনি এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পেটের দায়ে মৃত্যুঝুঁকি: প্রদ্যুতের কথায় ফুটে উঠেছে এক অসহায় পরিবারের করুন চিত্র। তিনি জানিয়েছেন, কাজের সময় গুদামের ভেতর মাঝে মাঝেই মেশিন চললে পুরো জায়গাটা কেঁপে উঠত, দুলত ছাদ। আতঙ্ক মনে কাজ করলেও পেটের দায়ে সেই ঝুঁকি মাথায় নিয়েই কাজ করতে হতো তাঁদের। প্রদ্যুতের আক্ষেপ, “জীবন চালানোর জন্য এর চেয়ে ভালো কোনো বিকল্প নেই। পেটের দায় যে কত বড়, তা আমরা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি।”

দুর্ঘটনা ও সরকারি সহায়তা: তারাতলার এই বিপর্যয়ে এখনও পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত ১৯ জন হাসপাতালে ভর্তি, যাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় রাজ্য ও কেন্দ্র সরকার আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেছে:

  • রাজ্য সরকার: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মৃতদের পরিবার পিছু ১০ লক্ষ এবং আহতদের পরিবার পিছু ১ লক্ষ টাকা সাহায্যের ঘোষণা করেছেন।

  • কেন্দ্রীয় সরকার: প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল (PMNRF) থেকে মৃতদের নিকটাত্মীয়দের ২ লক্ষ এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার কথা জানানো হয়েছে।

ধ্বংসস্তূপের নিচে থেকে প্রিয়তমা স্ত্রীকে ফিরে পাওয়ার স্বস্তি প্রদ্যুতের মুখে থাকলেও, কাজের জায়গায় নিরাপত্তার অভাব নিয়ে যে প্রশ্ন তিনি তুলে দিয়ে গেলেন, তা এখন বড়সড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।