কেতন হত্যা রহস্য: বিয়ের আগেই বাগদত্তাকে খুনের ভয়াবহ ছক সিয়ার! সমাজমাধ্যমের ‘সুখী ছবি’ কি শুধুই নাটক?

পুনের রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল হত্যা মামলায় প্রতিদিন সামনে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। হবু স্ত্রী সিয়া গয়াল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরী যে ঠাণ্ডা মাথায় এই খুনের পরিকল্পনা করেছিলেন, তা এখন স্পষ্ট। পুলিশের দাবি, লোহাগড় দুর্গে ঠেলে ফেলে দিয়ে খুনের আগে আরও দু’বার কেতনকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন সিয়া। পুলিশের জেরায় সিয়া স্বীকার করেছেন যে, চেতনের সঙ্গে তাঁর প্রেমের পথে কেতন ছিলেন বড় বাধা। সেই বাধা সরাতেই এই নৃশংস ষড়যন্ত্র।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘সুখী’ সিয়া বনাম বাস্তব:
আশ্চর্যের বিষয় হলো, সিয়ার ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে চোখ রাখলে কোনোভাবেই বোঝার উপায় ছিল না যে তাঁর মনে এমন ভয়াবহ কোনো ছক লুকিয়ে আছে। ফেব্রুয়ারি মাসে এনগেজমেন্টের পর থেকে নিয়মিত কেতনের সঙ্গে সুখী সম্পর্কের ছবি পোস্ট করতেন তিনি। মার্চের পোস্টেও কেতনকে ট্যাগ করে লিখেছিলেন, “আমার হৃদয় তার ঠিকানা খুঁজে পেয়েছে।” কেতনের মৃত্যুর পর সোশ্যাল মিডিয়ায় শোক প্রকাশ করে সিয়া লিখেছিলেন, “জন্মদিনেই আমাকে ছেড়ে চলে গেলে।” সেই পোস্টগুলিতে তাঁর আবেগী ক্যাপশন দেখে কেতনের পরিবারও প্রথমে বুঝতে পারেনি যে শোকের আড়ালে লুকিয়ে আছে খুনি।
খুনের ব্লু-প্রিন্ট ও পুলিশের জালে অপরাধীরা:
১৮ জুন লোহাগড় দুর্গে ছবি তোলার অছিলায় কেতনকে নিয়ে গিয়েছিলেন সিয়া। প্রাথমিক বয়ানে সিয়া দাবি করেছিলেন, প্রবল বাতাসে পা পিছলে কেতন খাদে পড়ে গিয়েছেন। কিন্তু ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশের সন্দেহ দানা বাঁধে। লোহাগড় দুর্গের ফুটেজে দেখা যায়, কেতন ও সিয়ার পেছনে ঘোরাঘুরি করছিল এক হুডি পরা ব্যক্তি। তদন্তে বেরিয়ে আসে, ওই ব্যক্তি আর কেউ নয়, সিয়ার প্রেমিক চেতন চৌধুরী।
জেরায় চেতন দাবি করেছে, সিয়ার পরিবার বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তারা চাপে পড়ে গিয়েছিল। সম্পর্কের মর্যাদা বাঁচাতে বা বিচ্ছেদের লজ্জা এড়াতে তারা এনগেজমেন্ট ভাঙার সাহস পায়নি, পরিবর্তে বেছে নিয়েছিল হত্যার পথ। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ১০৩ (খুন) ও ৬১ (অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র) ধারায় অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বিয়ের পিঁড়িতে বসার পরিবর্তে এখন শ্রীঘরে দিন কাটছে হবু স্ত্রীর। সিয়ার সোশ্যাল মিডিয়ার সেই ‘মিথ্যা ভালোবাসা’ আজ প্রকৃত অপরাধের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়েছে।