ধসে বিচ্ছিন্ন উত্তরবঙ্গ! সেবকে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে স্তব্ধ যোগাযোগ, চরম দুর্ভোগে পর্যটকরা।

বুধবার রাতভর টানা ভারী বর্ষণের ফলে ফের ভয়াবহ ধসের কবলে উত্তরবঙ্গ। বৃহস্পতিবার ভোররাতে শিলিগুড়ির সেবক কালীমন্দির ও করোনেশন সেতুর মাঝামাঝি ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে পাহাড় ধসে বিশাল আকৃতির পাথর ও মাটি নেমে আসায় যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিলিগুড়ির সঙ্গে ডুয়ার্স, কালিম্পং এবং সিকিমের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সড়কের উভয় প্রান্তে মাইলের পর মাইল জুড়ে আটকা পড়েছে শয়ে শয়ে যানবাহন। পাহাড় থেকে ফিরতে চাওয়া বহু পর্যটক ও নিত্যযাত্রীরা কার্যত দিশেহারা অবস্থায় রাস্তায় আটকে রয়েছেন।
ধসের খবর পেতেই ন্যাশনাল হাইওয়েজ অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড (NHIDCL)-এর কর্মীরা উদ্ধারকার্যে নামেন। সকালের দিকে ধসের একাংশ সরিয়ে ফেলা সম্ভব হলেও, একটি বিশালাকার পাথর সরাতে গিয়ে বিপত্তি ঘটে। পাথর ভাঙার কাজে ব্যবহৃত ভারী যন্ত্রটি হঠাৎ বিকল হয়ে পড়ায় উদ্ধারকাজ সাময়িক থমকে যায়। প্রশাসনের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল দুপুরের মধ্যে রাস্তা পরিষ্কার করা, কিন্তু যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সেই কাজ অনেকটাই বিলম্বিত হয়েছে। এখন সম্পূর্ণ রাস্তা সচল হতে সারাদিন লেগে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে, একটানা ভারী বৃষ্টির জেরে তিস্তা, তোর্সা, জলঢাকা, রায়ডাক ও মহানন্দার মতো প্রধান নদীগুলোর জলস্তর হু হু করে বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় গজলডোবার তিস্তা ব্যারেজ এবং মহানন্দার লকগেটগুলো পর্যায়ক্রমে খুলে দেওয়া হয়েছে। তিস্তার নিম্ন অববাহিকায় লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তবে কিছুটা স্বস্তির খবর, ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কের কাজ শেষ হয়েছে এবং দুধিয়া সেতু বাদে শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিংগামী অন্যান্য রাস্তা আপাতত স্বাভাবিক রয়েছে।
সেবকের এই ধসের জেরে সৃষ্ট দীর্ঘ যানজট কাটাতে প্রচুর সময় প্রয়োজন। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসন পর্যটক ও চালকদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। যেকোনো জরুরি যাত্রার আগে রাস্তার হাল হকিকত জেনে নিতে এবং সম্ভব হলে বিকল্প রুট ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত জনজীবন স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছে স্থানীয় প্রশাসন।