টাকা বা গয়না নয়, চুরি করল শুধু অন্তর্বাস! হলদওয়ানিতে অদ্ভুত চোরের কীর্তিতে হতবাক পুলিশ

মানসিক অবসাদ বা বিষণ্ণতা মানুষকে কোন পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে, তার এক বিরল ও বিমর্ষ উদাহরণের সাক্ষী রইল হলদওয়ানির নবাবী রোড এলাকা। সাধারণত চুরির ঘটনায় টাকা বা মূল্যবান গয়না চুরি করাই অপরাধীদের উদ্দেশ্য থাকে, কিন্তু হলদওয়ানিতে ধরা পড়া এক চোর চুরি করেছে শুধুমাত্র মহিলাদের অন্তর্বাস। এই অদ্ভুত চুরির ঘটনা শুধু পুলিশ প্রশাসনকেই নয়, রীতিমতো অস্বস্তিতে ফেলেছে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২৬ সালের ১৯শে জুন রাতে। হলদওয়ানির নবাবী রোডের মহেশ নগরের বাসিন্দা এক গৃহবধূ থানায় অভিযোগ করেন যে, ভোররাত ৩টে ২৩ মিনিট নাগাদ এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবক পাঁচিল টপকে বাড়ির ভেতরে ঢোকে। উঠোনে শুকোতে দেওয়া মহিলাদের অন্তর্বাস ও সালোয়ার চুরি করে সে পালিয়ে যায়। গোটা ঘটনাটি বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরায় রেকর্ড হয় এবং পরে সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে পড়লে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

নারীদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেন নৈনিতালে এসএসপি ডঃ মঞ্জুনাথ টিসি। তাঁর নির্দেশে হিরানগর থানার ইনচার্জ সঞ্জিত রাঠোর দ্রুত তদন্ত শুরু করেন। সিসিটিভি ফুটেজ ও স্থানীয় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার পঞ্চায়েত ঘর রোড এলাকা থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশি জেরায় জানা যায়, অভিযুক্তের নাম নিকেত সিং বিষ্ট। সে হলদওয়ানির কুসুমখেড়া, সমীর বিহারের বাসিন্দা। পুলিশের কাছে যা তথ্য এসেছে, তা রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতো। নিকেত বিদেশের মাটিতে পড়াশোনা শেষ করে কোভিড-১৯ অতিমারির সময় দেশে ফিরেছিল। উচ্চশিক্ষিত এই যুবক কেন এমন অদ্ভুত অপরাধে জড়িয়ে পড়ল? পুলিশি জেরায় অভিযুক্ত জানায়, সে দীর্ঘ দিন ধরে তীব্র মানসিক চাপে ভুগছিল। এই অবসাদ কাটাতে সে এক বন্ধুর পরামর্শে এই নোংরা পথ বেছে নেয়। ওই বন্ধুর দাবি ছিল, এই ধরনের কাজ করলে এক ধরনের ‘রোমাঞ্চ’ অনুভূত হয় যা মানসিক চাপ কমায়। সেই থেকে নিজের ‘মানসিক শান্তি’ খুঁজতে সে এই বিকৃত নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ে।

হলদওয়ানির পুলিশ আধিকারিক বিজয় মেহতা জানান, নিকেতের আচার-আচরণ দেখে প্রাথমিক অবস্থায় একে ‘ক্লেপ্টোম্যানিয়া’ (Kleptomania) নামক এক মানসিক ব্যাধি বলে মনে করা হচ্ছে। এটি এমন একটি রোগ যেখানে ব্যক্তি আর্থিক লাভের চেয়ে তাৎক্ষণিক মানসিক তৃপ্তির জন্য অপ্রয়োজনীয় বস্তু চুরি করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। তবে এসএসপি ডঃ মঞ্জুনাথ টিসি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ব্যক্তিগত কারণ বা মানসিক অসুস্থতার দোহাই দিয়ে নারীর সম্মানহানিকর কোনো কাজকেই হালকাভাবে নেওয়া হবে না। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই ঘটনাটি ফের একবার আমাদের সমাজের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এল।