ভিসা ছাড়াই ৫৬ দেশে প্রবেশের সুযোগ! ভারতীয় পাসপোর্টের বর্তমান অবস্থান জানলে অবাক হবেন

বুধবার, ২৪ জুন দেশজুড়ে পালিত হলো ‘পাসপোর্ট সেবা দিবস’। এই বিশেষ দিনে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর দেশ ও বিদেশের পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। ভারতের পাসপোর্ট প্রদানের সংখ্যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যেভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, তা এক অভূতপূর্ব মাইলফলক। তবে ভারত সরকারের এই সাফল্যের খবরের মাঝেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে ‘হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স’-এর নতুন র‍্যাঙ্কিং নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক চর্চা।

হেনলি ইনডেক্সে শীর্ষস্থানে সিঙ্গাপুর
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাসপোর্টের সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স যে নতুন তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে আবারও নিজের আধিপত্য বজায় রেখেছে সিঙ্গাপুর। সিঙ্গাপুরের পাসপোর্টধারীরা বিশ্বের ১৯২টি গন্তব্যে কোনো প্রকার ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুযোগ পান। তালিকায় এর পরেই যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। এই দেশগুলোর পাসপোর্ট দিয়ে ১৮৮টি দেশে ভিসা-মুক্ত প্রবেশ সম্ভব। তৃতীয় স্থানে থাকা সুইডিশ পাসপোর্টধারীরা ১৮৭টি দেশে ভ্রমণের সুবিধা পান।

তালিকায় চতুর্থ স্থানে থাকা বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, জার্মানি এবং ফ্রান্সসহ একগুচ্ছ ইউরোপীয় দেশ ১৮৬টি দেশে ভিসা-মুক্ত প্রবেশের অধিকার দেয়। পঞ্চম স্থানে রয়েছে অস্ট্রিয়া, গ্রিস, সুইজারল্যান্ডের মতো দেশগুলো। এছাড়া যুক্তরাজ্য ষষ্ঠ স্থানে এবং কানাডা ও অস্ট্রিয়া সপ্তম স্থানে জায়গা করে নিয়েছে। তালিকার একেবারে তলানিতে অর্থাৎ শেষের দিকে রয়েছে আফগানিস্তান, যা বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল পাসপোর্ট হিসেবে চিহ্নিত।

ভারতের অবস্থান ও সুবিধা
সর্বশেষ ‘হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স’-এ ভারতের পাসপোর্ট ৮০তম স্থানে রয়েছে। এটি ভারতের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক সম্পর্কেরই প্রতিফলন। বর্তমানে ভারতীয় পাসপোর্টধারীরা পূর্বানুমতি বা ভিসা ছাড়াই বিশ্বের ৫৬টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন। ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে ৮০তম অবস্থানে রয়েছে আলজেরিয়া, আইভরি কোস্ট, মৌরিতানিয়া এবং সেনেগালের মতো দেশগুলো। অন্যদিকে, প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের অবস্থা ভারতের তুলনায় অনেকটা নাজুক। পাকিস্তান এই তালিকায় ১০০তম স্থানে নেমে গেছে এবং তাদের পাসপোর্টধারীরা মাত্র ৩০টি দেশে ভিসা-মুক্ত প্রবেশের সুবিধা পান।

র‍্যাঙ্কিং নির্ধারণের মানদণ্ড
এই সূচকটি মূলত কোনো দেশের পাসপোর্ট কতটা শক্তিশালী, তা নির্ধারণ করে ওই দেশের নাগরিকরা কোনো অতিরিক্ত বিধিনিষেধ ছাড়াই বিদেশে ভ্রমণের সক্ষমতা কতটুকু অর্জন করেছেন তার ওপর। মোট ২২৭টি দেশ ও অঞ্চলের তথ্যের ভিত্তিতে এই র‍্যাঙ্কিং তৈরি করা হয়। যে দেশগুলো সমান স্কোর অর্জন করে, তাদের আন্তর্জাতিক প্রোটোকল অনুযায়ী একই র‍্যাঙ্কে রাখা হয়। এটি কেবল কোনো দেশের পাসপোর্ট পাওয়ার সহজলভ্যতা নয়, বরং আন্তর্জাতিক মহলে ওই দেশের গ্রহণযোগ্যতা এবং কূটনৈতিক শক্তির একটি বাস্তব প্রতিফলন। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, ভারতের পাসপোর্টের ক্রমবিকাশ সামনের দিনে আরও ভালো অবস্থানে পৌঁছানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।