শুভেন্দু কি ‘দেবদূত’? মমতা-ঘনিষ্ঠ মহুয়া মৈত্রের মন্তব্যে শোরগোল! মুখ খুললেন সাংসদ

তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে বঙ্গ রাজনীতিতে জল্পনার শেষ নেই। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ইন্টারভিউ ক্লিপকে কেন্দ্র করে রটে গিয়েছিল যে, শুভেন্দুর প্রতি নাকি মহুয়ার দৃষ্টিভঙ্গি নাটকীয়ভাবে বদলে গিয়েছে। ভিডিও ক্লিপটিতে এমন ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল যে, মহুয়া নাকি শুভেন্দুকে ‘দেবদূত’ হিসেবে দেখছেন। তবে এই বিতর্কিত জল্পনায় জল ঢেলে কড়া ভাষায় জবাব দিলেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ।

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ এই বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন মহুয়া। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সম্পূর্ণ সাক্ষাৎকার না দেখে শুধুমাত্র একটি ক্লিপ দেখে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া মূর্খামি। তাঁর কথায়, ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কেটেকুটে উপস্থাপন করা হয়েছে।

মহুয়া মৈত্র ব্যাখ্যা করেন, শুভেন্দু অধিকারী যখন তৃণমূল কংগ্রেসে ছিলেন, তখন তাঁদের মধ্যে একটি পেশাদার ও ইতিবাচক কর্মসম্পর্ক ছিল। তিনি স্মৃতি রোমন্থন করে বলেন, ২০১৪ সালে লোকসভার টিকিট না পেয়ে তিনি যখন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন, তখন শুভেন্দুই তাঁকে সাহস জুগিয়েছিলেন। এমনকি, ২০১৬ সালে করিমপুরে তাঁর প্রথম নির্বাচনী সভায় শুভেন্দু উপস্থিত থেকে প্রচারও করেছিলেন। মহুয়া স্পষ্ট করেন যে, এই মন্তব্যগুলো একান্তই অতীতের অভিজ্ঞতার বর্ণনা, বর্তমান রাজনৈতিক সমর্থনের কোনো সূচক নয়। শুভেন্দু দল ছাড়ার পর থেকে তাঁর সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ নেই বলেও দাবি করেছেন মহুয়া।

সাংসদ আরও বলেন, “শুভেন্দু দল ছেড়ে অন্য পথে গিয়েছেন, কিন্তু তিনি দলের ভেতরে থেকে ক্ষতিকর কোনো কাজ করেননি।” বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে মহুয়া পুনরায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের প্রতি তাঁর অবিচল আনুগত্য প্রকাশ করেছেন। দলের ভেতরে থেকে যারা অস্থিরতা বা বিশ্বাসঘাতকতা করছেন, তাদের প্রতিও তিনি এদিন তোপ দেগেছেন।

রাজনৈতিক মহলের মতে, মহুয়ার এই স্পষ্ট অবস্থান বুঝিয়ে দিল যে, অতীতের ব্যক্তিগত সখ্যতা থাকলেও রাজনীতির ময়দানে তিনি তাঁর অবস্থানেই অনড়। তৃণমূলের মূল নেতৃত্বের ওপর তাঁর ভরসা অটুট। বিরোধী শিবিরের একাংশ শুভেন্দুর সঙ্গে তাঁর সমীকরণ মেলাতে চাইলেও, মহুয়ার এই কড়া বার্তা সমস্ত জল্পনার ইতি টেনেছে।