মুখ্যমন্ত্রীর পাড়াতেই জমি দখলের অভিযোগ! নিজের ভাই অজিতের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ রঞ্জনার

রাজ্যের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু ভবানীপুর। আর সেই ভবানীপুরের ৮০বি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাসিন্দা রঞ্জনা হাজরা। রাজ্যের খোদ মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির ঠিকানায় দাঁড়িয়েই পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের অভিযোগে সরব হলেন তিনি। বিচার চেয়ে সোজা মুখ্যমন্ত্রীর ‘জনতার দরবার’-এ হাজির হলেন তিনি। অভিযোগের নিশানায় খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়।

রঞ্জনা হাজরার অভিযোগ, তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দীর্ঘ সময় ধরে তাঁদের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের চক্রান্ত চলছে। অভিযোগকারীর দাবি, এই দখলের চেষ্টার জেরে তাঁকে লাগাতার হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং প্রতিনিয়ত ভয়ের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। রঞ্জনাদেবীর অভিযোগ, এই পরিস্থিতির শিকার হয়েই তাঁদের পারিবারিক ব্যবসা পর্যন্ত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। দিনের পর দিন বিভিন্ন প্রশাসনিক স্তরে গিয়েও কোনো সমাধান মেলেনি বলেই দাবি তাঁর। অবশেষে নিরুপায় হয়েই জনতার দরবারে বিচার চাইতে এসেছেন তিনি। যদিও এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে এখনও কোনো সরকারি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। এমনিতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের অন্দরের সমীকরণ নিয়ে বিগত কয়েকদিন ধরেই নানা জল্পনা চলছে। চলতি মাসের শুরুতেই মমতার ভাই স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিস্ফোরক মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছিল। তিনি দাবি করেছিলেন, ২০২৪ সালে বিজেপির টিকিটে লড়ার প্রস্তাব পেলেও পরিবারের খাতিরে তা গ্রহণ করেননি। এমনকি, গত আড়াই বছর ধরে তিনি পৈত্রিক ভিটেয় যাওয়া প্রায় বন্ধ করে দিয়েছেন। ভাইফোঁটা বা রাখির মতো বিশেষ দিন ছাড়া সেখানে তাঁর প্রবেশ নিষিদ্ধপ্রায় বলেই জানিয়েছিলেন বাবুন।

বাবুনের এই মন্তব্য রাজনৈতিক আবহকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্টভাবে অভিযোগ করেছিলেন যে, অরূপ বিশ্বাস তাঁকে কাজ করতে দিতেন না এবং হকি সংগঠনের দায়িত্ব সুজিত বসু ষড়যন্ত্র করে তাঁর থেকে কেড়ে নিয়েছেন। তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশের প্রতি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বাবুন সরাসরি বলেছিলেন যে, তিনি নিশীথ প্রামাণিকের মতো বিজেপি নেতাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ বা অভ্যন্তরীণ কোন্দলের এই খবর বারবার প্রকাশ্যে আসায় অস্বস্তিতে পড়েছে রাজ্যের শাসকদল। একদিকে যখন মুখ্যমন্ত্রী উন্নয়নের ডঙ্কা বাজাচ্ছেন, ঠিক সেই সময়েই তাঁর বাড়ির পাশ থেকেই এই ধরণের অভিযোগ প্রশাসনিক স্বচ্ছতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিচ্ছে। রঞ্জনা হাজরার এই লড়াই শেষ পর্যন্ত কি কোনো সুরাহা পাবে, নাকি এটিও রাজনৈতিক ধামাচাপার শিকার হবে? এখন সেই প্রশ্নই তুলছে সাধারণ মানুষ। জনতার দরবার থেকে এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় ভবানীপুরবাসী।