মমতার প্রাক্তন ‘ভরসা’র সঙ্গে ঋতব্রতর রুদ্ধদ্বার বৈঠক! টেবিলে রাখা বিশেষ বই ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা

বিরোধী দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিভিন্ন মহলের সঙ্গে নিয়মিত সৌজন্য সাক্ষাৎ সারছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে বুধবার সন্ধ্যায় আইনজীবী সঞ্জয় বসুর সঙ্গে তাঁর সাম্প্রতিক বৈঠক রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। বৈঠকের একটি ছবি ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে তাঁদের সামনে টেবিলে রাখা রয়েছে স্যাম ডালরিম্পলের লেখা আলোচিত বই ‘Shattered Lands’।

এই বইটির আন্তর্জাতিক গুরুত্ব অপরিসীম। ১৯৩০ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত ভারতীয় সাম্রাজ্যের ভাঙন ও বিভাজনের ইতিহাস নিয়ে রচিত এই গ্রন্থটি ইতিমধ্যে ফিনান্সিয়াল টাইমস, এনপিআর ও বিবিসির মতো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বর্ষসেরা ইতিহাসের স্বীকৃতি পেয়েছে। এছাড়া ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ অরওয়েল পুরস্কারের চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পাওয়া এই বইটি আধুনিক দক্ষিণ এশিয়ার ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক মানচিত্র পরিবর্তনের এক সাহসী দলিল। এই গুরুত্বপূর্ণ বইটি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং উপহার দিয়েছেন আইনজীবী সঞ্জয় বসুকে, যা এই সাক্ষাতের গুরুত্বকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সাক্ষাতের নেপথ্যে রয়েছে সুগভীর তাৎপর্য। আইনজীবী সঞ্জয় বসু দীর্ঘ সময় ধরে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত আস্থাভাজন এবং প্রধান আইনি পরামর্শদাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিভিন্ন মানহানির মামলা, আইনি জটিলতা কিংবা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই ও ইডি সংক্রান্ত আইনি লড়াইয়ের ক্ষেত্রে সঞ্জয় বসুর ওপরই ভরসা রাখত শাসকদল। কিন্তু ২০২৫ সালের মার্চ মাস থেকেই তাঁদের পারস্পরিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং দূরত্ব তৈরি হয়।

বর্তমানে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যখন অত্যন্ত জটিল মোড় নিয়েছে এবং তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে বিরোধী দলনেতার সঙ্গে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান আইনি পরামর্শদাতার এই সাক্ষাৎ সাধারণ সৌজন্যের গণ্ডি পেরিয়ে রাজনৈতিক সমীকরণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। যদিও প্রকাশ্যে একে শুধুমাত্র সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ বলেই দাবি করেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।

তথাপি, বইয়ের পাতায় উল্লিখিত ‘সাম্রাজ্যের পতন ও বিভাজন’ কি রাজ্যের শাসকদলের বর্তমান পরিস্থিতিকেই প্রতীকীভাবে তুলে ধরছে? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের নজর এখন এই বৈঠকের পরবর্তী প্রভাবের দিকে। শাসকদলের আইনি প্রধানের সঙ্গে বিরোধী দলনেতার এই নিরুত্তাপ ছবি কি ভবিষ্যতে বড় কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তনের পূর্বাভাস? সেই উত্তর খুঁজছে রাজ্য রাজনীতি।