টিএমসি-তে বড় ভাঙন: মমতা অপসারিত, অভিষেক বরখাস্ত! দল দখল করল বিদ্রোহীরা

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক অভাবনীয় ও নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) বিদ্রোহী গোষ্ঠী আনুষ্ঠানিকভাবে দলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে। সোমবার দলের অন্দরে এক বিশেষ অধিবেশনে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চেয়ারপার্সনের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং অভিষেক ব্যানার্জীকে দল থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত (Suspension) করা হয়েছে।
বিদ্রোহীদের নতুন কমিটি ও নেতৃত্ব: দলের সাংগঠনিক কাঠামো আমূল বদলে ফেলে বিদ্রোহীরা নতুন কমিটি ঘোষণা করেছে:
সভাপতি (চেয়ারম্যান): অরূপ রায়।
সহ-সভাপতি: অরূপ বিশ্বাস, ফিরহাদ হাকিম ও রথীন ঘোষ।
সাধারণ সম্পাদক: জাভেদ খান, সন্দীপন সাহা, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সাবিনা ইয়াসমিন।
কোষাধ্যক্ষ: আখতারুজ্জামান।
দল দখলের দাবি ও প্রতীকের লড়াই: ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, ৬০ জন বিধায়ক এবং অন্তত ৭০ জন কাউন্সিলরের সমর্থন নিয়ে তাদের এই নতুন কমিটি গঠিত হয়েছে। তিনি দৃঢ়ভাবে দাবি করেছেন যে, তাদের গোষ্ঠীই ‘আসল তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং দলের নির্বাচনী প্রতীক ব্যবহারের আইনি অধিকারও তাদেরই। অভিষেক ব্যানার্জীর বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে ঋতব্রত বলেন, “জনগণের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত অভিষেককে দল থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।”
সাংগঠনিক অস্থিতিশীলতা: নিউটাউনে বিদ্রোহী কাউন্সিলরদের এক বৈঠকে বিধায়ক ও কাউন্সিলরদের এই ব্যাপক উপস্থিতি মমতা ব্যানার্জীর কর্তৃত্বের প্রতি বড়সড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। আসন্ন কলকাতা পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিদ্রোহীদের এই পদক্ষেপ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনার সৃষ্টি করেছে।
আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতা: বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চ্যাটার্জীর নাম প্রস্তাব করা এবং ৭০ জন বিধায়কের স্বাক্ষর সম্বলিত চিঠি বিধানসভায় পাঠানোর ঘটনা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বিদ্রোহীরা এখন আইনগতভাবেও দলকে নিজেদের আয়ত্তে আনার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। যদিও তৃণমূলের মূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এখনও এই নতুন কমিটির আইনি বৈধতা নিয়ে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা হয়নি, তবে রাজ্য রাজনীতিতে এই বিভাজন যে তৃণমূলের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
তৃণমূল কংগ্রেসের এই সংকটের চূড়ান্ত পরিণাম কী হয় এবং নির্বাচন কমিশন এই দুই গোষ্ঠীর লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কার দিকে পাল্লা ঝোঁকায়—সেটাই এখন বাংলার রাজনীতির প্রধান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।