তারাতলায় গুদাম ধসে ভয়াবহ মৃত্যুমিছিল: ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ভেসে আসছে ‘বাঁচান’ আর্তি

পশ্চিম কলকাতার তারাতলা এলাকায় বুধবার দুপুরে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল শহর। নির্মাণাধীন একটি গুদামের ছাদ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন প্রায় ৪০-৪৫ জন শ্রমিক। এখন পর্যন্ত ৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে। দুর্ঘটনার পর থেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ভেসে আসছে আটকে পড়া শ্রমিকদের করুণ আর্তনাদ— “স্যার, দয়া করে আমাদের বাঁচান।”

ঠিক কী ঘটেছিল? সূত্রের খবর, এটি পরিবহণ বিভাগের একটি গুদাম ছিল। বুধবার কাজ চলাকালীনই কাঠামোটির একটি লোহার বিম সরে গিয়ে ভেঙে পড়ে। শ্রমিকরা যখন সেই অংশটি মেরামত করার চেষ্টা করছিলেন এবং কাঠামোটিকে পুনরায় দাঁড় করানোর জন্য ভেতরে প্রবেশ করেন, ঠিক তখনই বিকট শব্দে আস্ত টিনের গুদামটি ধসে পড়ে। চোখের নিমেষে বহু শ্রমিক লোহার ভারী বিম ও টিনের নিচে আটকা পড়েন।

যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ: ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ, দমকল বাহিনী এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দল। উদ্ধারকাজকে দ্রুততর করতে গ্যাস কাটার ব্যবহার করে লোহার বিম কাটা হচ্ছে। তবে ধ্বংসস্তূপের গভীরতা এবং বিমগুলোর ভার এতটাই বেশি যে, উদ্ধারকর্মীদের প্রতিটি পদক্ষেপ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নিতে হচ্ছে। উদ্ধারকারীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে হাত লাগিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।

পরিস্থিতি উদ্বেগজনক: আহত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া বেশ কয়েকজনকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অনেকেরই মাথায় ও শরীরে গুরুতর আঘাত রয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভাইরাল হওয়া এক ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, উদ্ধারকাজ চলাকালীন ভেতর থেকে আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে। এক উদ্ধারকারী বা প্রত্যক্ষদর্শীর কথায়, “ভেতর থেকে কেউ একজন চিৎকার করে বলছে, দয়া করে বাঁচান, আর কতক্ষণ এভাবে আটকে থাকতে হবে!” এই মর্মান্তিক দৃশ্য ও আটকে পড়াদের আকুতি এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে।

গোটা এলাকা ঘিরে রেখেছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। বিপর্যয় মোকাবিলা দল রাতভর উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই দুর্ঘটনার নেপথ্যে নির্মাণগত কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্তের দাবি উঠেছে।