সব্যসাচীর গ্রেফতারির পর এবার স্ত্রী ইন্দ্রাণীর খোঁজে পুলিশ! ৩ কোটি টাকার রহস্যভেদে তলব, কী জানালেন তদন্তকারীরা?

তোলাবাজি এবং আর্থিক দুর্নীতির মামলায় বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র তথা তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্তের গ্রেফতারির রেশ কাটতে না কাটতেই এবার তদন্তের মোড় ঘুরল তাঁর স্ত্রী ইন্দ্রাণী দত্তের দিকে। সব্যসাচীর আর্থিক লেনদেন ও অঘোষিত সম্পত্তির উৎস সন্ধানে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ এবার তলব করল ইন্দ্রাণী দত্তকে। জানা গিয়েছে, বিধাননগরের ডিএল ব্লকে ইন্দ্রাণী দত্ত যে বাড়িতে থাকেন, সেই বাড়ির গেটে পুলিশ ইতিমধ্যেই হাজিরা দেওয়ার জন্য নোটিশ ঝুলিয়ে দিয়ে এসেছে।

উল্লেখ্য, গত ৮ জুন তোলাবাজির অভিযোগে সব্যসাচী দত্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর তাঁকে লাগাতার জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা সব্যসাচী ও তাঁর স্ত্রী’র যৌথ নামে থাকা পাঁচটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সন্ধান পান। সেই অ্যাকাউন্টগুলোতে মোট ৩ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা গচ্ছিত রয়েছে বলে দাবি পুলিশের। শুধু তাই নয়, নিউটাউনে সব্যসাচীর ফ্ল্যাট ও ব্যাংক লকার থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন কেজি সোনা। বিপুল পরিমাণ এই অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কারের বৈধ উৎস সম্পর্কে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি প্রাক্তন মেয়র।

তদন্তকারী অফিসারদের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল, বুধবার সকাল ১০টার মধ্যে ইন্দ্রাণী দত্তকে বিধাননগর উত্তর থানায় হাজিরা দিতে হবে। কিন্তু শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, তিনি পুলিশের এই তলবে সাড়া দেননি। সব্যসাচী দত্ত গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই তাঁর স্ত্রী’র কোনো হদিশ পাচ্ছেন না তদন্তকারীরা। এমনকি ইন্দ্রাণী দত্ত যে বিলাসবহুল গাড়িটি ব্যবহার করতেন, সেটিরও কোনো সন্ধান মিলছে না। পুলিশ সূত্রে খবর, আইন ভেঙে পুলিশি নোটিশ উপেক্ষা করলে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ২০৮ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তদন্তকারীদের দাবি, ইন্দ্রাণী দত্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলেই সব্যসাচী দত্তের বেনামি সম্পত্তি, বিভিন্ন প্রকল্পে বিনিয়োগ এবং সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের মূল রহস্য উন্মোচিত হবে। উল্লেখ্য, এই তদন্তের সূত্র ধরেই গত সোমবার নদিয়া জেলা পরিষদের সদস্য তথা সব্যসাচী দত্তের ঘনিষ্ঠ নেত্রী টিনা ভৌমিক সাহার পৈতৃক বাড়িতেও হানা দেন কমিশনারেটের আধিকারিকরা। সেখান থেকেও প্রায় ৪ কোটি ৩৯ লক্ষ টাকা মূল্যের ৩ কেজি সোনার গয়না বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বিপুল এই সোনা ও টাকার উৎস খুঁজতে মরিয়া পুলিশ এখন ইন্দ্রাণী দত্তের মুখোমুখি হতে চাইছেন। সব্যসাচী দত্তের ঘনিষ্ঠ মহলে এই ঘটনাপ্রবাহে তৈরি হয়েছে প্রবল আতঙ্ক। রাজনৈতিক মহলেও চর্চা তুঙ্গে যে, দুর্নীতির এই জাল কতদূর বিস্তৃত।