সমালোচকদের মুখে ঝামা! জোড়া গোল করে ইতিহাস গড়ে বিশ্বমঞ্চে গর্জে উঠলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো!

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। সমালোচনার তিরে বিদ্ধ ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো আবারও জবাব দিলেন মাঠের পারফরম্যান্সে। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে সিআরসেভেন প্রমাণ করে দিলেন, কেন তাঁকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা বাজি ধরা হয়। হিউস্টনে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে উজবেকিস্তানকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে পর্তুগাল দাপটের সঙ্গে জয়ের স্বাদ পেয়েছে।

গত সপ্তাহে ডিআর কঙ্গোর বিরুদ্ধে গোলের মুখ না দেখায় রোনাল্ডোকে নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। বিশ্বকাপ ও ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ মিলিয়ে টানা ১২টি ম্যাচে ওপেন প্লে থেকে গোল করতে ব্যর্থ হওয়ায় ৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকার প্রথম একাদশে থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। কিন্তু সেইসব নেতিবাচকতাকে মাঠের বাইরে রেখেই এদিন ম্যাচের মাত্র ষষ্ঠ মিনিটে জোয়াও ক্যানসেলোর ক্রস থেকে এক অনবদ্য হাফ-ভলিতে গোলের খরা কাটান তিনি। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পাঁচ মিনিট আগে ব্রুনো ফার্নান্দেসের নিখুঁত পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে রোনাল্ডো পর্তুগালের জয়ের ভিত মজবুত করেন।

এই গোলের মাধ্যমেই ইতিহাস গড়েছেন রোনাল্ডো। প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা ছ’টি ভিন্ন ফিফা বিশ্বকাপে গোল করার নজির স্থাপন করলেন তিনি। ম্যাচ শেষে আবেগপ্রবণ রোনাল্ডো বলেন, “কঠিন এবং অন্ধকার ছিল গত সপ্তাহটা। এমনও মনে হচ্ছিল যেন আমি ফুটবল থেকে অবসর নিয়ে ফেলেছি। কিন্তু আমি ফুটবলের চেয়ে কঠোর পরিশ্রমে বেশি বিশ্বাস করি। ঈশ্বর তাদেরই সাহায্য করেন যারা হার মানতে শেখেনি।”

তাঁর এই পারফরম্যান্স পর্তুগাল শিবিরে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। সমালোচকদের উদ্দেশ্যে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, বয়স তাঁর কাছে কেবল একটি সংখ্যা মাত্র। অভিজ্ঞতা এবং গোল করার সহজাত ক্ষমতা নিয়ে রোনাল্ডো এখনও বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী স্ট্রাইকার। তাঁর এই প্রত্যাবর্তন শুধু পর্তুগালের জয়ই নিশ্চিত করেনি, বরং সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে জয়ের স্বপ্ন বুনে দিয়েছে। উজবেকিস্তানের রক্ষণভাগকে দুমড়ে-মুচড়ে পর্তুগাল যেভাবে দাপট দেখিয়েছে, তাতে আগামী ম্যাচগুলোতে রোনাল্ডো আরও বড় হুমকি হয়ে উঠবেন, এমনটাই মনে করছে ফুটবল বিশ্ব। সিআরসেভেনের অদম্য লড়াইয়ের গল্প আজ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।