প্রেমের বিয়েতেই কাল হলো রমনদীপের! পাতিয়ালায় স্ত্রীকে হত্যার দায়ে গ্রেপ্তার ভারতীয় সেনার জওয়ান

পাঞ্জাবের পাতিয়ালা জেলা থেকে একটি হৃদয়বিদারক এবং চাঞ্চল্যকর অপরাধের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে দেশের সুরক্ষায় নিয়োজিত একজন সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে নিজের স্ত্রীকে ঠান্ডা মাথায় হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মৃতার নাম রমনদীপ কৌর এবং অভিযুক্ত স্বামীর নাম হ্যাপি সিং। এই ঘটনাটি কেবল একটি হত্যাকাণ্ডই নয়, বরং অপরাধ লুকাতে এক সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের নজির হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযুক্ত হ্যাপি সিং পেশায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর একজন জওয়ান।

জানা গেছে, মানসার বাসিন্দা হ্যাপি সিং এবং রমনদীপ কৌরের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরিবারের অমতে গিয়ে ২০২৪ সালে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক অশান্তি তাদের নিত্যসঙ্গী হয়ে ওঠে। হ্যাপি সিংয়ের বাবা-মা এই সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি, যার ফলে রমনদীপকে শ্বশুরবাড়িতে ঠাঁই দেওয়া হয়নি। পারিবারিক বিবাদের জের ধরে দম্পতির মধ্যে প্রায়ই তিক্ততা তৈরি হতো। এই সংঘাত থেকে মুক্তি পেতে তারা কিছুদিন সাঙ্গরুরে ভাড়া বাড়িতে থাকতে শুরু করলেও সম্পর্কের টানাপোড়েন কমেনি।

তদন্তে উঠে এসেছে, ২৩ জুন ২০২৬ সালের রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আবারও মারাত্মক ঝগড়া হয়। এরপরই হ্যাপি সিং এক নারকীয় পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে হাঁটেন। তিনি রমনদীপকে জোর করে গাড়িতে তুলে পাতিয়ালার পাসিয়ানা ব্রিজের দিকে নিয়ে যান। জনমানবহীন রাতের সুযোগ নিয়ে তিনি দ্রুতগতিতে গাড়িটি ভাকরা খালের গভীর জলে নামিয়ে দেন। গাড়িটি যখন জলে ডুবে যাচ্ছিল, তখন হ্যাপি সিং একজন প্রশিক্ষিত সৈনিক হিসেবে সাঁতার জানতেন বলে অনায়াসে গাড়ির দরজা খুলে বেরিয়ে আসেন। কিন্তু ভেতরে আটকা পড়া অসহায় রমনদীপ কৌর জলের প্রবল স্রোতে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে গাড়ির ভেতরেই প্রাণ হারান।

পরদিন সকালে স্থানীয় এক যুবক খালে একটি গাড়ি ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। উদ্ধারকারী দল এবং ডুবুরিদের সহায়তায় দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর গাড়িটি তোলা হয় এবং রমনদীপের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের ভাই গুরজিৎ সিংয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ সেনাসদস্য হ্যাপি সিংকে গ্রেপ্তার করেছে। পাসিয়ানা থানার এসএইচও গুরপ্রীত সিং সাংরাও জানিয়েছেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, পারিবারিক অশান্তির হাত থেকে চিরতরে মুক্তি পেতেই এই জঘন্য কাণ্ড ঘটিয়েছেন অভিযুক্ত। বর্তমানে তাকে রিমান্ডে নিয়ে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রমনদীপের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে গোটা এলাকায় শোক ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।