এই যুবককে দেখলেই ছুটে আসেন অসহায় মানুষরা…! এক যুবকের মানবিক লড়াইয়ে গর্বিত বাংলা

শৈশবের রূঢ় বাস্তবতায় যারা বেড়ে ওঠেন, তাদের হৃদয়ে অন্যের কষ্ট বোঝার ক্ষমতা অনেক বেশি থাকে। মা-বাবার স্নেহবঞ্চিত হয়ে বড় হওয়া হাবড়ার খারো এলাকার যুবক রনিত সিংহ রায় সেই যন্ত্রণার অর্থ মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেছেন। আর সেই অভিজ্ঞতাই তাকে আজ আর্তমানবতার সেবায় উদ্বুদ্ধ করেছে। নিজের কষ্টের দিনগুলোর কথা মনে করে রনিত এখন প্রতিদিন শিলিগুড়ি থেকে বনগাঁ-শিয়ালদহ শাখার বিভিন্ন স্টেশনে ভবঘুরে ও অসহায় মানুষের মুখে তুলে দিচ্ছেন দুপুরের খাবার।
মাত্র এক বছর বয়সে মাকে হারানো, তারপর বাবাকেও পাশে না পাওয়া—এক কঠিন জীবনের ভেতর দিয়ে বড় হয়েছেন রনিত। ঠাকুমার আদরে বেড়ে ওঠা রনিত পরবর্তীতে জেঠু-জেঠিমার আশ্রয়ে বড় হলেও অভাব তাকে কোনোদিন ছাড়েনি। নিজের ছোটবেলার সেই অপূর্ণ ইচ্ছেগুলোই আজ তাকে অন্যের মুখে হাসি ফোটানোর প্রেরণা জুগিয়েছে। হাবড়া চৈতন্য কলেজ থেকে ইংরেজিতে স্নাতক হওয়ার পর তিনি টিউশানি শুরু করেন। বর্তমানে প্রায় ৩০ জন পড়ুয়াকে ইংরেজি পড়িয়ে যে আয় হয়, তা দিয়েই নিজের সংসার এবং মানবিক এই বড় কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
প্রতিদিন ভোর সাড়ে চারটেয় রনিতের সংসার জেগে ওঠে। স্ত্রীকেও সঙ্গে নিয়ে তিনি রান্নার কাজে হাত লাগান। ভাত, ডাল, সবজির পাশাপাশি মেনুতে প্রায়ই থাকে মাছ, মাংস কিংবা ডিমের মতো পুষ্টিকর খাবার। দুপুর গড়ানোর আগেই তিনি খাবারের গামলা নিয়ে বেরিয়ে পড়েন বনগাঁ-শিয়ালদহ লাইনের বিভিন্ন স্টেশনে। স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে রনিতকে দেখলেই এখন অনেক অসহায় মানুষ খাবারের আশায় ছুটে আসেন। তাদের মুখের তৃপ্তির হাসিই তার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
রনিতের এই মহৎ উদ্যোগ আজ আর একক কোনো প্রচেষ্টা নেই, বরং তা ধীরে ধীরে জনআন্দোলনের রূপ নিচ্ছে। তার কাজে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেকেই এখন নিজেদের জন্মদিন কিংবা বিবাহবার্ষিকীর মতো বিশেষ দিনে আর্থিক সাহায্য নিয়ে এগিয়ে আসছেন। এতেই আরও বেশি মানুষের কাছে খাবার পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। সমাজের প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে রনিত বুঝিয়ে দিয়েছেন, হৃদয়ে দয়া থাকলে সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতা কোনো বড় বাধা নয়। তার এই নিরলস প্রচেষ্টা বর্তমান ব্যস্ত পৃথিবীতে মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।