বিদেশের মাটিতে ভারত গৌরবের জয়জয়কার, রয়্যাল কলেজ অব সার্জেনসে বসলো শল্যচিকিৎসার জনক সুশ্রুতের মূর্তি

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী রইল স্কটল্যান্ডের রয়্যাল কলেজ অব সার্জনস অব এডিনবার্গ। আধুনিক শল্যচিকিৎসা এবং প্লাস্টিক সার্জারির জনক হিসেবে পরিচিত প্রাচীন ভারতের ঋষি মহর্ষি সুশ্রুতের এক বিশাল ব্রোঞ্জের মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে এই ঐতিহ্যবাহী সার্জিক্যাল কলেজে। বিশ্বের প্রাচীনতম এবং অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সার্জিক্যাল প্রতিষ্ঠানে মহর্ষি সুশ্রুতের এই মূর্তি স্থাপন ভারতীয় চিকিৎসা পদ্ধতির শ্রেষ্ঠত্বকে বিশ্বমঞ্চে নতুন করে প্রতিষ্ঠিত করল।

এই মহৎ উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছেন ব্রিটেনের প্রখ্যাত সার্জন অধ্যাপক চন্দ্র চেরুভু। তামিলনাড়ুর বিখ্যাত ভাস্কর রাঘবানান্থম স্থপতির দক্ষ হাতে তৈরি প্রায় ৯০ কেজি ওজনের এই ব্রোঞ্জের মূর্তিটি ভারতীয় কারুশিল্পের এক অনন্য নিদর্শন। তিরুচির ‘ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল এন্ডোসার্জনস’-এর সভাপতি কে. গোবিন্দরাজের পরামর্শে এবং অধ্যাপক চন্দ্র চেরুভুর নিরলস প্রচেষ্টায় মাত্র দুই মাসের রেকর্ড সময়ে মূর্তিটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

মহর্ষি সুশ্রুত এবং তাঁর কালজয়ী গ্রন্থ ‘সুশ্রুত সংহিতা’ আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে বিবেচিত হয়। এই সংস্কৃত গ্রন্থে মানবদেহের গঠন, রোগ নির্ণয়, অস্ত্রোপচারের যন্ত্রপাতি, ক্ষতের সেলাই এবং মৃতদেহ ব্যবচ্ছেদের মতো জটিল বিষয়ের বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। তাঁকে আধুনিক ‘রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জারি’ বা প্লাস্টিক সার্জারির পথিকৃৎ বলা হয়। এছাড়াও চোখের ছানি অপারেশন বা গ্লুকোমার মতো অস্ত্রোপচারে তিনি যে কৌশল শিখিয়েছিলেন, তা আজও চিকিৎসকদের বিস্মিত করে। ধারণা করা হয়, তিনিই প্রথম চিকিৎসাশাস্ত্রে ১২৫টিরও বেশি শল্যচিকিৎসার যন্ত্রপাতি ব্যবহারের প্রচলন করেছিলেন।

মূর্তি স্থাপনের পাশাপাশি অধ্যাপক চন্দ্র চেরুভু এবং তাঁর সহকর্মীরা ‘Compendium of Sushruta’ নামে একটি বিশেষ বইয়ের সংকলন করেছেন। ৪০ জন লেখকের হাত ধরে ৩৬টি অধ্যায়ে বিন্যস্ত এই গ্রন্থটি শল্যচিকিৎসায় সুশ্রুতের অমর অবদানকে বিশদভাবে তুলে ধরেছে। গত ১৯ জুন রয়্যাল কলেজ অব সার্জনস অব এডিনবার্গে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে মূর্তির আনুষ্ঠানিক উন্মোচন করেন ভারতের কনসাল জেনারেল সিদ্ধার্থ মালিক। এই অনুষ্ঠানে কলেজের সভাপতি ক্লেয়ার ম্যাকনট, প্রাক্তন সভাপতি রোয়ান পার্কস এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত প্রখ্যাত সার্জন ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। এডিনবার্গের মাটিতে মহর্ষি সুশ্রুতের এই মূর্তি শুধু একটি স্থাপত্য নয়, বরং এটি প্রাচীন ভারতীয় চিকিৎসা পদ্ধতির বিজ্ঞানের প্রতি আধুনিক বিশ্বের গভীর শ্রদ্ধার্ঘ্য।