বন্যপ্রাণ জগতের বিস্ময়, পাহাড়ের কোলে সাদা অজগরের উদয়, হতবাক বিশেষজ্ঞরা

উত্তরবঙ্গের প্রকৃতিপ্রেমী ও স্থানীয়দের জন্য এক অভূতপূর্ব ঘটনার সাক্ষী রইল কালিম্পং। তিস্তা নদীর অববাহিকায় লিখুভির এলাকায় দেখা মিলল এক বিশালাকার সাদা অজগরের। মঙ্গলবার গভীর রাতে স্থানীয়দের নজরে আসা এই বিরল প্রাণীর একটি ভিডিও মুহূর্তে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। পাহাড়ের কোলঘেঁষা তিস্তা নদীর চরে এমন এক রহস্যময় সাপের উপস্থিতিতে একদিকে যেমন তীব্র কৌতূহল তৈরি হয়েছে, তেমনই এর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন পরিবেশবিদরা।
বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কোনো সাধারণ সাপ নয়, বরং একটি ‘অ্যালবিনো ইন্ডিয়ান রক পাইথন’ বা সাদা ভারতীয় অজগর। সাধারণত অজগরের শরীরে যে গাঢ় খয়েরি বা কালচে নকশা থাকে, জিনগত মিউটেশনের ফলে এই সাপের ক্ষেত্রে মেলানিনের অভাব রয়েছে। যার ফলে এর চামড়া ধবধবে সাদা। বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন, ভারতের উন্মুক্ত বন্য পরিবেশে এমন অ্যালবিনো অজগরের উপস্থিতি নজিরবিহীন এবং এটি প্রাণীবিদ্যার ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হতে পারে।
সর্প বিশেষজ্ঞ শ্যামাপ্রসাদ পাণ্ডে এই ঘটনার ব্যাখ্যায় বলেন, “অ্যালবিনিজম একটি বিরল জিনগত অবস্থা। মেলানিনের অভাবে এই সাপেরা সাদা হয়। বন্য পরিবেশে তাদের টিকে থাকা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং, কারণ স্বাভাবিক রঙের অভাবের ফলে এরা ঝোপঝাড়ে বা পাথরে মিশে যেতে পারে না। ফলে শিকারি প্রাণী বা মানুষের নজরে পড়ার ঝুঁকি এদের ক্ষেত্রে অনেক বেশি।”
উল্লেখ্য, ‘ইন্ডিয়ান রক পাইথন’ দৈর্ঘ্যে প্রায় ২০ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। এরা বিষহীন হলেও অত্যন্ত শক্তিশালী, যা শিকারকে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন, ১৯৭২ অনুযায়ী এই প্রজাতিকে সর্বোচ্চ আইনি সুরক্ষা বা ‘সিডিউল ওয়ান’ দেওয়া হয়েছে, যা বাঘ বা সিংহের সমতুল্য। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা বা আইইউসিএন-এর রেড লিস্টে এই সাপ ‘বিপন্নপ্রায়’ হিসেবে তালিকাভুক্ত।
কালিম্পং ও তিস্তার এই সংলগ্ন এলাকাটি পাহাড় ও সমতলের সংযোগকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্যপ্রাণ করিডোর। এই বিরল সাদা অজগরটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবেশকর্মীরা বনদপ্তরের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, এই মূল্যবান বন্যপ্রাণীটিকে সুরক্ষিত রেখে তার শারীরিক পরিস্থিতির ওপর নজরদারি চালানো হোক। তিস্তার চরে এই সাদা ‘দানব’ বা ‘বিস্ময়’কে নিয়ে এখন রীতিমতো শোরগোল পড়ে গেছে রাজ্যজুড়ে।