বাজেটেই বড় ঘোষণা: রাজ্যের নতুন ৫টি জেলা ও ৯টি পুরসভা তৈরির প্রস্তাব, নবান্নে খুশির হাওয়া

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রশাসনিক মানচিত্রে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পথে হাঁটছে রাজ্য। প্রশাসনিক পরিষেবা আরও গতিশীল ও সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ঐতিহাসিক কলকাতা-সহ রাজ্যের পাঁচটি নতুন জেলা তৈরির প্রস্তাব পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেটেই এই ঘোষণা এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে। নতুন জেলাগুলির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে কলকাতা, বসিরহাট, সুন্দরবন, জঙ্গিপুর ও আরামবাগ।
এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে থাকা প্রধান উদ্দেশ্য হলো সরকারি পরিষেবার বিকেন্দ্রীকরণ। প্রশাসনের সুবিধার্থে কলকাতাকে জেলা হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে, শহরের নাগরিকদের বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা পেতে আগের চেয়ে অনেক দ্রুত ও সহজতর পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে। নতুন ব্যবস্থায় কলকাতায় একজন জেলাশাসক (District Magistrate) নিয়োগ করা হবে। ফলে কলকাতা পুরসভার কমিশনারের ওপর কাজের যে অতিরিক্ত চাপ ছিল, তা অনেকাংশেই লাঘব হবে। এছাড়া, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বড়সড় পরিবর্তন আসবে। এখন থেকে কলকাতা উত্তর বা দক্ষিণের মতো পৃথক ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসারের প্রয়োজনীয়তা থাকবে না; কলকাতার নতুন জেলাশাসকের নেতৃত্বেই সমস্ত লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
তবে প্রশ্ন উঠছে, পুলিশ কমিশনারের ক্ষমতার ক্ষেত্রে কি কোনো কাটছাঁট হবে? নবান্ন সূত্রের খবর, কলকাতা জেলা হলেও কলকাতা পুলিশের পুলিশ কমিশনারের (CP) অধিকারে কোনো হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে না। আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, ১৬৩ ধারা প্রয়োগ বা অন্যান্য আইনি ইস্যুতে পুলিশ কমিশনারের যে প্রচলিত ক্ষমতা ছিল, তা অক্ষুণ্ণ থাকবে। অন্যদিকে, কলকাতা পুরসভার কমিশনারের কাছে নিকাশি ব্যবস্থা, জঞ্জাল অপসারণসহ দৈনন্দিন পরিষেবার দায়িত্ব আগে যেমন ছিল, তেমনই থাকবে। অর্থাৎ, প্রশাসনিক সেবায় জেলাশাসক যুক্ত হলেও মূল কাঠামোয় এক ভারসাম্য বজায় রাখা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী এদিন শুধুমাত্র জেলার প্রস্তাবই দেননি, পাশাপাশি নতুন করে ৯টি পুরসভা তৈরির প্রস্তাবও দিয়েছেন। প্রশাসনিক সংস্কারের এই অংশ হিসেবে নতুন মহকুমা ও অগ্নিনির্বাপণ কেন্দ্র গঠনের পরিকল্পনাও বাজেটে রাখা হয়েছে। বিধানসভায় বাজেট পাশ হওয়ার পর এখন রাজ্য মন্ত্রিসভার পরবর্তী বৈঠকে কলকাতা জেলা গঠনের চূড়ান্ত অনুমোদন মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে। এরপরই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক নোটিফিকেশন জারি করা হবে।
রাজ্যের এই প্রশাসনিক সংস্কারকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। যেখানে একটি জনবহুল মেট্রোপলিটন শহরকে জেলা হিসেবে দেখা ছিল অনেকদিনের প্রত্যাশা, সেখানে এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জীবনে কতটা পরিবর্তন আনে, তা এখন দেখার বিষয়। নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, কলকাতা জেলা গড়ার আইনি প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে, রাজ্য সরকারের এই প্রশাসনিক মডেলে আমূল পরিবর্তনের পদক্ষেপটি পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে এক মাইলফলক হিসেবে গণ্য হবে।