বড় ধাক্কা নীরব মোদীর! ১০০ কোটি টাকা মেটানোর নির্দেশ লন্ডনের আদালতের

পলাতক হিরে ব্যবসায়ী নীরব মোদীর আইনি অস্বস্তি আরও বাড়ল সুদূর ব্রিটেনে। পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক (PNB) কেলেঙ্কারির অন্যতম মূল অভিযুক্ত নীরব মোদীকে এবার বড়সড় নির্দেশ দিল লন্ডনের একটি আদালত। ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার বকেয়া ঋণ পুনরুদ্ধারের এক মামলায় আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, নীরব মোদীকে ১০.৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১০০ কোটি টাকারও বেশি অবিলম্বে ফেরত দিতে হবে।

লন্ডনের সার্কিট কমার্শিয়াল কোর্ট মঙ্গলবার ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার পক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ রায় প্রদান করেছে। আদালতের রায়ে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, দুবাইয়ের সংস্থা ‘ফায়ারস্টার ডায়মন্ড এফজেডই’ (Firestar Diamond FZE)-এর নেওয়া ঋণের জন্য নীরব মোদী নিজে ব্যক্তিগত গ্যারান্টি (Personal Guarantee) দিয়েছিলেন। এই ঋণের আসল পরিমাণ ৪.১ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩৮.৯ কোটি টাকা) হলেও, তার ওপর জমে থাকা দীর্ঘদিনের সুদ মিলিয়ে মোট বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০.৭ মিলিয়ন ডলারে।

মামলার প্রেক্ষাপটটি বেশ পুরনো। আজ থেকে প্রায় ১৪ বছর আগে ২০১২ সালের ৩ অগস্ট, পিএনবি কেলেঙ্কারি সামনে আসার বহু আগেই ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঋণ নিয়েছিল নীরব মোদীর ফায়ারস্টার গ্রুপ। সেই সময় নীরব মোদী ব্যক্তিগত গ্যারান্টিপত্রে সই করে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তাঁর সংস্থা ঋণ শোধ করতে ব্যর্থ হলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে দায়বদ্ধ থাকবেন। কিন্তু ২০১৮ সালে সিবিআই যখন পিএনবি কেলেঙ্কারিতে নীরবের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে, তখন থেকেই ধসে পড়ে তাঁর আর্থিক সাম্রাজ্য। ফলে দুবাইয়ের ওই সংস্থাও ঋণখেলাপি হয়ে পড়ে।

ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া নিয়মমাফিক টাকা ফেরতের দাবি জানালে, নীরবের আইনজীবীরা আদালতে অদ্ভুত এক যুক্তি দাঁড় করান। তাঁরা দাবি করেন, নীরবকে পাঠানো ডিমান্ড নোটিসগুলি নাকি তিনি হাতে পাননি, কারণ সেই সময় তিনি ভারতে ছিলেন না। এমনকি ব্রিটেনের সংশোধনাগারে থেকেও তিনি নোটিস পাননি বলে দাবি করেন। তবে লন্ডনের আদালত নীরবের এই সমস্ত সওয়াল এক ঝটকায় খারিজ করে দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, ২০১৯ সালেই নীরব ব্যাঙ্কের দাবির বিষয়ে অবগত ছিলেন এবং ২০২৫ সালের অক্টোবরের নোটিসটি সরাসরি তাঁর ব্রিটিশ কারাগারের ঠিকানাতেই পাঠানো হয়েছিল। পাশাপাশি, ২০১৮ সালে নীরব নিজে ইমেইল করে স্বীকার করেছিলেন যে তাঁর ব্যবসা লাটে উঠেছে।

আদালতের এই পর্যবেক্ষণে পরিষ্কার, ঋণ চুক্তি কার্যকর করার ক্ষেত্রে ব্যাঙ্কের দাবি পুরোপুরি আইনসম্মত। লন্ডনের আদালতের এই নির্দেশ ব্রিটেনের মাটিতে বসে থাকা পলাতক এই হিরে ব্যবসায়ীর জন্য এক বড় আইনি ধাক্কা। ভারতে প্রত্যর্পণ এড়াতে নীরব মোদী দীর্ঘদিন ধরে আইনি লড়াই চালাচ্ছেন এবং বর্তমানে ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতের (ECHR) দ্বারস্থ হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার পক্ষে আসা এই রায় ভারতের জন্য এক বড় নৈতিক ও আইনি জয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নির্দেশ শুধু ব্যাঙ্কের পাওনা টাকা উদ্ধারের পথই প্রশস্ত করল না, বরং আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের আইনি লড়াইকে আরও শক্তিশালী করল। পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের কোটি কোটি টাকা জালিয়াতির মামলায় অভিযুক্ত এই ব্যবসায়ীকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া এতে আরও গতি পাবে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।