তামান্না খুনে অ্যাকশন মুডে শুভেন্দু সরকার, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জালে আরও ২ অভিযুক্ত!

কালীগঞ্জের ছোট্ট তামান্নার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অবশেষে নড়েচড়ে বসল প্রশাসন। রাজ্যের পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী যে কড়া পদক্ষেপের বার্তা দিয়েছিলেন, তার প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠল তামান্না খুনের তদন্তে। বুধবার এই ঘটনায় আরও দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতদের নাম সাবির শেখ এবং জিয়ারুল শেখ।

দীর্ঘদিন ধরে চলা টালবাহানার পর, তামান্নার মৃত্যুর এক বছর পূর্তিতেই যেন তদন্তে নতুন গতি এল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাতে পুলিশের একটি বিশেষ দল মুর্শিদাবাদে অভিযান চালায়। জিয়ারুল শেখ তার শ্বশুরবাড়িতে আত্মগোপন করেছিল, সেখান থেকেই তাকে পাকড়াও করে পুলিশ। একই কায়দায় সাবির শেখকেও তার শ্বশুরবাড়ির এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই দুই গ্রেফতারির পর তামান্না খুনের ঘটনায় মোট গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৩। তবে তামান্নার পরিবারের দায়ের করা মূল অভিযোগ অনুযায়ী, এখনও ১১ জন দুষ্কৃতী পুলিশের নাগালের বাইরে।

ঘটনার সূত্রপাত ঠিক এক বছর আগে, ২৩ জুন। কালীগঞ্জের উপ-নির্বাচনের ভোট গণনার দিন তৃণমূলের জয় নিশ্চিত হওয়ার পর এলাকা জুড়ে শুরু হয় বোমাবাজি। অভিযোগ, সিপিএম সমর্থকদের বাড়ি লক্ষ্য করে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা হামলা চালায়, যার বলি হয় ছোট্ট তামান্না। গত এক বছর ধরে পরিবারের অভিযোগ ছিল যে, নামমাত্র কয়েকজনকে গ্রেফতার করলেও পুলিশ বাকি মূল অভিযুক্তদের আড়াল করছে। তদন্ত কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছিল।

কিন্তু রাজনৈতিক সমীকরণের পরিবর্তনের পর পরিস্থিতির নাটকীয় মোড় ঘোরে। বিজেপি সরকার রাজ্যে ক্ষমতায় আসার এক মাসের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়া শুভেন্দু অধিকারী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, বিগত সরকারের আমলের সব খুনের ঘটনার যথাযথ তদন্ত হবে। অপরাধীদের কোনোভাবেই রেহাই দেওয়া হবে না। এই ভরসা নিয়েই মঙ্গলবার তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিন এবং সিপিএম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের আশ্বস্ত করেন যে, দোষীরা অবিলম্বে শাস্তির আওতায় আসবে। সেই সাক্ষাতের ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই পুলিশের এই জোড়া গ্রেফতারি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

কৃষ্ণনগর জেলা পুলিশের ডিএসপি শিল্পী পাল জানিয়েছেন, “ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। আজ তাদের আদালতে পেশ করা হবে। আমাদের তদন্ত দ্রুত গতিতে চলছে এবং বাকি পলাতক অভিযুক্তদের গ্রেফতারের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে।”

তৃণমূল সরকারের আমলে যে তদন্তে গতি ছিল না, তা এখন দ্রুত এগোচ্ছে দেখে তামান্নার পরিবার কিছুটা হলেও আশার আলো দেখছেন। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর তামান্নার মা বলেছিলেন, “আমরা বিচার চাই।” সেই বিচারের পথে বুধবারের এই গ্রেফতারি নিঃসন্দেহে একটি বড় মাইলফলক। এখন দেখার বিষয়, বাকি ১১ জন অভিযুক্ত কবে পুলিশের জালে ধরা পড়ে।