“আজ দেখুন বাড়িতে বসে আমার বক্তব্য শুনছেন!'”-এবার মমতার কটাক্ষের জবাব দিলেন শুভেন্দু

বিধানসভার বাজেট অধিবেশনে এদিন এক অন্যরকম মেজাজে দেখা গেল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে। বিরোধীদের জবাবি ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি যেমন নিজের সরকারের স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক মানসিকতার কথা তুলে ধরেন, তেমনই প্রাক্তন সরকারের আমলে বিরোধী দলনেতা হিসেবে তাঁকে যে চরম হয়রানির শিকার হতে হয়েছিল, সেই পুরনো ক্ষোভ উগরে দেন সভার ফ্লোরে।
তৃণমূল বিধায়কদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনারা মন্ত্রী থাকাকালীন ভয়ে থরথর করে কাঁপতেন। আমরা তো প্রথম দিন থেকেই প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধীদের ডাকছি। আপনারা পাঁচ বছর কী করেছেন? আমাকে বিধানসভা থেকে পাঁচবার বহিষ্কার করা হয়েছে, প্রায় সাড়ে ১১ মাস আমাকে হাউসের বাইরে রাখা হয়েছিল।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, তৎকালীন সময়ে বিধানসভায় তাঁর কণ্ঠরোধ করতে শাসকদলের নারী বিধায়কদের ‘ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করা হতো।
নিজের বিরুদ্ধে হওয়া আইনি পদক্ষেপের খতিয়ান তুলে ধরে শুভেন্দু অধিকারী জানান, সেই সময় তাঁর নামে মোট ১০২টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। পরে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে বহু মামলা খারিজ হওয়ার পর বর্তমানে সেই মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৫-এ। এমনকি যেকোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অনুমতি পাওয়ার জন্যও তাঁকে ১০৪ বার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল বলে এদিন তিনি দাবি করেন।
বিধানসভার অন্দরে রাজনৈতিক আক্রমণের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করেই তীব্র কটাক্ষ করেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, পুরভোটে পরাজয়ের পর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী কীভাবে তাঁকে বিধানসভার ফ্লোর থেকেই কটাক্ষ করেছিলেন। শুভেন্দু বলেন, “আমি সেদিনই বলেছিলাম, ২০২৬ সালে এর জবাব দেব। নন্দীগ্রাম থেকে ভবানীপুর—সবখানেই হার হয়েছে। যিনি নিজের বুথে হারেন, তাঁকে জননেত্রী মানতে হবে? আর আজ দেখুন, আপনি বাড়িতে বসে আমার বক্তৃতা শুনছেন।”
মুখ্যমন্ত্রীর এই তথ্যভিত্তিক এবং আক্রমণাত্মক ভাষণ এদিন বিধানসভার অধিবেশনে বিরোধী শিবিরকে কার্যত ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে। তৃণমূল জমানার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিরুদ্ধে তাঁর এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু করেছে।