“১০২টি মামলা, সাড়ে ১১ মাস সাসপেনশন!”-২০২১-এর ‘অত্যাচার’ নিয়ে বিধানসভায় সরব মুখ্যমন্ত্রী

রাজ্যের বিধানসভায় রাজ্যপালের ভাষণের ওপর ধন্যবাদ জ্ঞাপন প্রস্তাবের বিতর্কে মঙ্গলবার এক বিধ্বংসী মেজাজে দেখা গেল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে রাজ্যে হওয়া রাজনৈতিক হিংসা ও অত্যাচারের খতিয়ান তুলে ধরে পূর্বতন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তিনি।

২১-এর হিংসার ভয়াবহ স্মৃতি: বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় পরিসংখ্যান দিয়ে বলেন, “২০২১ সালে আপনারা যে ধরণের অত্যাচার চালিয়েছেন, তা কোনো শত্রু দেশেও দেখা যায় না।” মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পর প্রায় ১ লক্ষেরও বেশি বিজেপি কর্মীকে ঘরছাড়া করা হয়েছিল। বিশেষ করে মগরাহাট পশ্চিমের বিজেপি প্রার্থী মানস সাহার মৃত্যুর কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, “কাউন্টিং হলের ভেতরেই তাঁকে খুন করা হয়েছিল।” সরকারি নথি অনুযায়ী, ওই সময়ে রাজনৈতিক সন্ত্রাসে মৃত্যুর সংখ্যা ৫৭ বলে দাবি করেন তিনি।

নিজের ওপর হওয়া ‘হেনস্থার’ ফিরিস্তি: এদিন মুখ্যমন্ত্রী নিজের জীবনের অভিজ্ঞতার কথাও অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে তুলে ধরেন। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে তিনি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, “আমার নামে মোট ১০২টি মামলা করা হয়েছিল। বিরোধী দলনেতা হিসেবে আপনার নামে ক’টি মামলা আছে?” তিনি আরও জানান, হাই কোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াইয়ের পর বর্তমানে তাঁর নির্বাচনী হলফনামায় মামলার সংখ্যা ৩৫।

শুধু আইনি মামলা নয়, রাজনৈতিক কর্মসূচির অনুমতি পেতে তাঁকে বারবার উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “আমাকে কর্মসূচি করার অনুমতি নেওয়ার জন্য ১০৪ বার হাইকোর্টে যেতে হয়েছিল।”

বিধানসভাতেও রোষের মুখে পড়ার অভিযোগ: বিধানসভার অন্দরেও তৎকালীন বিরোধী দলনেতা হিসেবে তাঁকে কীভাবে কোণঠাসা করা হয়েছিল, তাও এদিন উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, তাঁকে মোট পাঁচবার বিধানসভা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল এবং দীর্ঘ সাড়ে ১১ মাস তাঁকে হাউসের বাইরে রাখা হয়েছিল। তৎকালীন স্পিকার ও শাসকদলের রোষের শিকার হওয়ার সেই অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বুঝিয়ে দেন, গণতন্ত্রের লড়াইটা তিনি কতটা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে লড়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রীর এই তথ্যভিত্তিক এবং পরিসংখ্যানবহুল আক্রমণ বিরোধী শিবিরকে বিধানসভার ফ্লোরে বেশ কোণঠাসা করে দেয়। রাজ্যের সুরক্ষা এবং রাজনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রাখা যে তাঁর সরকারের অগ্রাধিকার, তা এদিন তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমেই স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।